
সুপ্রতিম সরকারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।
শেষ আপডেট: 13 April 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার গভীর রাতে ফের চরম অশান্তি মুর্শিদাবাদে। ফের ঝরল রক্ত। এমনকি বিএসএফ জওয়ানদের লক্ষ্য করে শুরু হয় প্রবল ইটবৃষ্টিও। গুলিবিদ্ধ হন সামশের নাদাব নামের এক যুবক। প্রথমে তাঁকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, সেখান থেকে দ্রুত পাঠানো হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি বহরমপুরে ওই হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসকদের মতে, তাঁর কোমরের কাছে গুলি লেগেছে এবং প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে। অবস্থাও আশঙ্কাজনক। পরিবার জানায়, তিনি পেশায় ফেরিওয়ালা ছিলেন এবং শনিবার বিকেলে অশান্তির আবহে নিখোঁজ হয়ে যান। আধ ঘণ্টা পরে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
গুলিবিদ্ধের দাদা কাইফুল নাদাব অভিযোগ করেন, “শুক্রবার রাত থেকেই এলাকায় অশান্তি চলছিল। পুলিশকে একাধিকবার ফোন করা হলেও কেউ আসেনি। আমরা ভাইকে ফোন করেও পাচ্ছিলাম না। পরে দেখি সে গুলি খেয়ে পড়ে আছে।”
রবিবার সকালে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। মুর্শিদাবাদে আসা ADG (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। অভিযোগ ওঠে, এতদিন পুলিশ কোথায় ছিল? কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? গ্রামবাসীরা জানান, দোকানপাট, জামাকাপড়ের দোকান, এমনকি মিষ্টির দোকানও ভাঙচুর করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ-সহ একাধিক অশান্ত এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্য পুলিশের তরফে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বাছাই করা ২৩ জন অভিজ্ঞ পুলিশকর্তাকে ‘বিশেষ দায়িত্বে’ সেখানে পাঠানো হচ্ছে। তাঁদের রবিবার সামশেরগঞ্জ থানায় রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত ডিজিপি (আইনশৃঙ্খলা) এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেন শনিবারই।
পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও জোরদার করা হয়েছে। রবিবার মুর্শিদাবাদে পৌঁছেছেন বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি করণি সিংহ শেখাওয়াত। তিনি নিজে অশান্ত এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং বলেন, পুলিশ চাইলে যতদিন প্রয়োজন, ততদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি জওয়ানদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এলাকায় ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ শুরু হয়েছে। রাজ্যের ডিজিপি রাজীব কুমার নিজে মুর্শিদাবাদে পৌঁছে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সঙ্গেই বিএসএফের সঙ্গে আলোচনাও করেন। এই বৈঠকের পরেই বিশেষ পুলিশ বাহিনীকে দ্রুত জঙ্গিপুরে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে, ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জের বাসিন্দাদের একাংশ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে মালদহে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, এখন 'রাষ্ট্রপতি শাসন' ছাড়া কোনও পথ নেই বলে মনে করছেন অনেকেই। গত তিন দিন ধরে চলতে থাকা এই অশান্তিতে ইতিমধ্যেই ১৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।