
কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক
শেষ আপডেট: 8 April 2025 18:08
মামিনুল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে স্কুলে গিয়েছিলেন। সহকর্মীদের পাশে বসে কান্না চেপে রাখতে পারলেন না ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষক জসিমুদ্দিন শেখ। দু-চোখ ভেসে গেল জলে। প্রচণ্ড খেটে ভাল পরীক্ষা দিয়ে পাওয়া চাকরিটা কী করে এমনভাবে চলে গেল ঘটনার পাঁচদিন পরেও বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি। পাশে বসা চাকরিহারা আরেক শিক্ষক মাসুদ রানা তখন বলছেন, "যোগ্য অযোগ্য বাছাই না হলে হারানো চাকরিটা কিছুতেই ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।"
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বৈঠক করেছিলেন আদালতের রায়ে চাকরি চলে যাওয়া শিক্ষকদের সঙ্গে। সেখানে তিনি চাকরিহারা শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি যাবে না। আইন মেনেই তিনি দু মাসের মধ্যে ব্যবস্থা করবেন। ততদিন চাকরিহারা শিক্ষকদের ভলান্টারি সার্ভিস দিতেও অনুরোধ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই আশ্বাস পাওয়ার পরেই মঙ্গলবার স্কুলে গিয়েছিলেন দুই শিক্ষক।
মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের সেকেন্দ্রা হাইস্কুল। এখানে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৪৫০০জন। স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর সংখ্যা ছিল ৪৪ জন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হয়েছে ১৭ জন শিক্ষক এবং একজন ক্লার্কের চাকরি। এই খবর জানার পরেই চিন্তিত হয়ে পড়েন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এতজন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হওয়ায় কী করে স্কুল চালাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরে মঙ্গলবার স্কুলে এসেছিলেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জসিমুদ্দিন সেখ ও ফিলোজফির শিক্ষক মাসুদ রানা।
স্কুলের টিচার্স রুমে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন জসিমুদ্দিন সেখ। বলেন, "যারা অযোগ্য তাঁদের নামের তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করা হোক। এভাবে আমাদের যোগ্যতায় পাওয়া চাকরি বাতিল হল, এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই এই চাকরিটা পেয়েছিলাম। সেই চাকরি কেন হারাতে হবে?কীভাবে সংসার চলবে আমাদের?"
তাঁদের সহকর্মী জাহির আব্বাস বলেন, "এই ঝড়ের জন্য আমরা তৈরি ছিলাম না। প্রত্যেকে যোগ্য শিক্ষক। সহমর্মী। আমরা চাই সম্মানের সঙ্গেই তাঁরা কাজে ফিরে আসুক।"