
নবদ্বীপের ক্ষীর দই
শেষ আপডেট: 18 December 2024 13:59
কাজল বসাক, নদিয়া
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান নবদ্বীপে তো ঘুরে এলেন। দই খেয়েছেন কি? যদি না খান তাহলে কিন্তু বড় মিস। নবদ্বীপের দইয়ের পরিচিতি ক্ষীর দই নামে। অন্য জায়গার দইয়ের থেকে স্বাদে যা এক্কেবারে আলাদা। সে দই মুখে দিলেই একেবারে ক্ষীরের স্বাদ। আর হবে নাই বা কেন! সাত-আট ঘণ্টা দুধ জ্বাল দিয়ে দিয়ে তবে বানানো হয় ক্ষীর। আর সেই ক্ষীরেই বসানো হয় দই।
নবদ্বীপে দুধের বাজার নামকরা। যেখানে একদম খাঁটি দুধ পাওয়া যায়। সেই দুধ কিনে নিয়ে আসেন প্রস্তুতকারকেরা। এরপর কড়াইয়ে ৭-৮ ঘণ্টা ধরে দুধ জাল দিয়ে ক্ষীর তৈরি করা হয়। এরপর ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের মাটির পাত্রে সেই ক্ষীর ঢেলে সাজিয়ে তবেই নিভু আঁচে বসিয়ে দই তৈরি করার পালা। তিন প্রজন্ম ধরে এই দইয়ের কারবার করেন বিপ্লব দাস। তিনি নিজেই ৪০ বছর ধরে এই কাজ করছেন। তাঁর কথায়, "মূলত মোষের দুধেই দই তৈরি করি আমরা। গরুর দুধেও হয় কখনও কখনও। নবদ্বীপের দুধ খাঁটি। সেই দুধ মেরে ক্ষীর করে তবেই দই বসাই আমরা। বেশ শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া। তবে চাহিদাও খুব। এই জেলা তো বটেই দূরবর্তী জেলাগুলিতেও যায় আমাদের ক্ষীর দই।"
তবে একইসঙ্গে এটাও জানা গেল, এই ক্ষীর দই বানানো এতটাই শ্রমসাধ্য যে এখন কারিগরের সমস্যায় ভুগছেন প্রস্তুতকারকরা। দইয়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অঙ্কিতা ঘোষ বলেন,"নবদ্বীপের দই তৈরির একটা বিশেষত্ব আছে। আগের মতো কারিগর এখন আর পাওয়া যায় না। অনেকেই এত শ্রমসাধ্য উপায়ে দই তৈরি করতে চান না। তাই আমার বাবা বা দাদু যে ব্যবসা করে গেছেন তা আমার পক্ষে টেনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে কিনা বুঝতে পারছি না।"
নবদ্বীপের দইয়ের এই বিশেষত্বই অবশ্য বারবার আকর্ষণ করে ক্রেতাদের। মুর্শিদাবাদ থেকে আসা কার্তিকচন্দ্র দত্ত জানান, নবদ্বীপে যতবার আসেন এই ক্ষীর দই খান। বাড়ির জন্যও নিয়ে যান। রাজ্যের বহু জায়গায় দই খেয়েছেন। কিন্তু এমন মুখে লেগে থাকার মতো স্বাদ মেলেনি কোথাও। এই শীতেও তাই নবদ্বীপের দইয়ের চাহিদায় কমতি নেই। স্বাদের বাহারেই শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, নবদ্বীপের দই এখন পাড়ি দিচ্ছে ভিনরাজ্যেও।