
শেষ আপডেট: 4 April 2025 16:21
মামিনুল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ
মানবিকতার খাতিরে স্কুল ছেড়ে যেতে পারলেন না কোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিল হওয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক। পরীক্ষা চলছে স্কুলে। সেই দায়বদ্ধতাতেই চাকরি গেলেও স্কুলে থেকে পরীক্ষা পরিচালনা করলেন সুতির বহুতালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক।
সুতির বহুতালি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা ৩৭০০ জন। স্থায়ী শিক্ষক সংখ্যা ১৫ জন। তার মধ্যে মহামান্য আদালতের নির্দেশে ১১ জনেরই চাকরি বাতিল হয়েছে। চাকরি বাতিল হয়েছে জেনে ১০ জন শিক্ষক স্কুল ছেড়ে চলে গেলেও, পরীক্ষা চলায় ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মানবিকতার খাতিরে স্কুল ছেড়ে যেতে পারলেন না ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক। তিনি না থাকলে পরীক্ষা পরিচালনা কঠিন হবে বলেই দাবি ছিল তাঁর। চাকরি বাতিল হওয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শুক্রবারও স্কুলে এসে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করলেন। তবে নিজের আসন ছেড়ে বসলেন পাশের একটি চেয়ারে।
ম্যানেজিং কমিটির সহযোগিতায় এখন বাইরে থেকে গেস্ট টিচার এনে পরীক্ষা চলছে বহুতালি স্কুলে। স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলা, ইতিহাস এবং শারীর শিক্ষা টিচার ছাড়া আর কোন স্থায়ী টিচার নেই। বিজ্ঞান বিভাগেও কোনও স্থায়ী শিক্ষক নেই। তাই পড়ুয়ারা যেমন বিপাকে ঠিক তেমনই চিন্তিত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২০১৬ সালে এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল করে দেয়। এর ফলে চাকরি হারান ২৫ হাজার ৭৫৩ জন। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। এছাড়া আলাদা করে মামলা করে রাজ্যের শিক্ষা দফতর, এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদও। দফায় দফায় মামলা করেন চাকরিহারারাও। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট চাকরি বাতিলের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় দেয় শীর্ষ আদালত। তাতে চাকরি যায় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর।