সমস্ত ডিএম-এসপিদের সিলিন্ডারের অন্যত্র ব্যবহার, মজুতদারি, কালোবাজারি ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করারও নির্দেশ দেন মমতা।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন নদিয়ার ডিএম-এসপি
শেষ আপডেট: 13 March 2026 21:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে গ্যাস সঙ্কট (Gas Crisis) শুরু হয়েছে। রাজ্যের মানুষকে এই সমস্যা থেকে রেহাই দিতে প্রশাসনিক বেষ্টনি মজবুত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক, জেলাশাসক এবং পদস্থ পুলিশ কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি ঠেকানোর রুপরেখা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। সমস্ত ডিএম-এসপিদের সিলিন্ডারের অন্যত্র ব্যবহার, মজুতদারি, কালোবাজারি ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করারও নির্দেশ দেন মমতা।

এর মধ্যেই গ্যাস সঙ্কট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ময়দানে নামল নদিয়া জেলা প্রশাসন (Nadia)। শুক্রবার কল্যাণীর ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC) বটলিং প্ল্যান্টে দীর্ঘ পর্যালোচনা বৈঠক করলেন নদিয়ার জেলাশাসক নিখিল নির্মল (গত সপ্তাহেই তিনি জেলাশাসক হয়েছেন), রানাঘাটের পুলিশ সুপার ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি হাসপাতাল, স্কুল বা আইসিডিএস কেন্দ্রে সিলিন্ডারের জোগান স্বাভাবিক রাখাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

এ দিনের বৈঠকে বটলিং প্ল্যান্টের জেনারেল ম্যানেজার গৌরীশঙ্কর সুধাংশু জানান, সাধারণত এই প্ল্যান্টে দিনে প্রায় ৮৬ হাজার সিলিন্ডার ভর্তি করা হয়। যার ৯৭ শতাংশই যায় সাধারণ মানুষের হেঁশেলের জন্য। কিন্তু গত তিন দিন ধরে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের ‘রেশনালাইজেশন’ বা বিশেষ নির্দেশিকার কারণে দৈনিক উৎপাদনের ক্ষমতা কমিয়ে ৭০ হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে। আর এই উৎপাদন হ্রাসই সরবরাহে ঘাটতির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘাটতি নেই, দাবি ডিস্ট্রিবিউটরদের
উৎপাদন কমলেও কল্যাণী এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান বলরাম মাঝি দাবি করেছেন, বর্তমানে ডিলারদের কাছে গৃহস্থালির সিলিন্ডারের কোনও বড়সড় ঘাটতি নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিস্ট্রিবিউটররা সারাক্ষণ প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বর্তমানে কল্যাণী বটলিং প্ল্যান্ট থেকে নদিয়া-সহ উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানের ১৬০টিরও বেশি ডিস্ট্রিবিউটরকে পরিষেবা দেওয়া হয়।

নদিয়ার জেলাশাসক নিখিল নির্মল এ দিন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, জোগান নিশ্চিত করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে যৌথভাবে মহকুমা ভিত্তিক নজরদারি চালাতে হবে। ডিলারদের কাছে প্রতিদিন কত পরিমাণ গ্যাসের মজুত থাকছে, তার নিয়মিত হিসাব নেওয়া হবে। এ ছাড়াও,
এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের ক্ষেত্রে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ (First Come, First Served) নীতি কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চকে (EB) অতি সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এ দিন পর্যন্ত নদিয়া জেলায় কালোবাজারির কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ মেলেনি বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
এ দিনের বৈঠকে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কল্যাণীর মহকুমাশাসক, পুরসভার চেয়ারম্যান ও ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে তাঁরা কল্যাণী বটলিং প্ল্যান্টের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন।