বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দুর্গম অঞ্চলগুলিতে পৌঁছানোর জন্য। সুখিয়াপোখরির তাবাকোশি-সহ পাহাড়ি এলাকার বহু গ্রামে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 10 October 2025 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের বন্যা ও ভূমিধসে (North Bengal Floods) ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে টানা কয়েকদিন ধরে চলা ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর ও জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নবান্নর (Nabanna) তরফে বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানান হল।
সকলকে অবগত করে বলা হয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় চালু রয়েছে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র (Relief Camp), অস্থায়ী আশ্রয়শিবির (Shelter) ও রান্নাঘর (Kitchen)। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে খাদ্য, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাদের গুরুত্বপূর্ণ নথি বন্যায় নষ্ট হয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে দ্রুত নতুন করে নথি ইস্যু করা যায়।
এর পাশাপাশি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দুর্গম অঞ্চলগুলিতে পৌঁছানোর জন্য। সুখিয়াপোখরির তাবাকোশি-সহ পাহাড়ি এলাকার বহু গ্রামে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছে। একই সঙ্গে, ধ্বংসস্তূপ ও কাদামাটি পরিষ্কারের কাজও চলছে জোরকদমে।
জলের উৎস, পুকুর ও মাছের ঘের জীবাণুমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে, যাতে সংক্রামক রোগ না ছড়ায় এবং মাছচাষ ও জীবিকার কাজ দ্রুত স্বাভাবিক করা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, সড়ক ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে জেলা প্রশাসন, যাতে ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা যায়।
পরিকাঠামো পুনর্গঠনের কাজেও ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দার্জিলিংয়ের (Dargeeling) দুধিয়া ব্রিজের মেরামত কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়, যা ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সম্পূর্ণ হওয়ার আশা করছে সরকার। একইভাবে, এনএইচ-৩১সি-র কালিখোলা সেতুর কাজও জরুরি ভিত্তিতে চলছে এবং আংশিকভাবে চালু করা হয়েছে। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির ৩০টিরও বেশি জায়গায় সড়ক, সেতু ও কালভার্টের মেরামত কাজ চলছে রাতদিন, যাতে যান চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করা যায়।
স্পষ্ট বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে রাজ্যের পুনর্বাসন ও ত্রাণ কার্যক্রমের উপর নিয়মিত নজরদারি করছেন। মুখ্যসচিবও সমস্ত জেলা শাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে ত্রাণের অগ্রগতি ও সহায়তা কার্যক্রমের পর্যালোচনা করেছেন, যাতে কোনও পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, দ্রুত পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একযোগে সমস্ত প্রশাসনিক ও ত্রাণ সংস্থা মিলে কাজ করছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জীবনযাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক করতে - মানবিকতা, দায়বদ্ধতা ও তৎপরতার সঙ্গে।