বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এক্স (পুরানো টুইট) হ্যান্ডলে কর্মীদের জন্য এই সুখবর শুনিয়েছিলেন।

বকেয়া ডিএ-র টাকা ছাড়া শুরু নবান্নের
শেষ আপডেট: 28 March 2026 23:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীর্ষ আদালতের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে নবান্ন (Nabanna)। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বেঁধে দেওয়া ৩১ মার্চের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কর্মীদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পাঠানোর কাজ শুরু করেছে রাজ্য অর্থ দফতর। দীর্ঘ আইনি টানাপড়েন আর আন্দোলনের পর এই প্রাপ্তিতে খুশির হওয়া বইলেও, সেই খুশিতে জল ঢেলেছে টাকার ‘পরিমাণ’। সরকারি কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, প্রাপ্যর তুলনায় অনেকটাই কম টাকা দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
সরকারি ঘোষণায় কী বলা হয়েছিল?
বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এক্স (পুরানো টুইট) হ্যান্ডলে কর্মীদের জন্য এই সুখবর শুনিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো হবে। অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ দুটি কিস্তিতে মেটানোর কথা। স্থির হয়েছিল, প্রথম কিস্তি দেওয়া হবে চলতি মার্চে এবং দ্বিতীয় কিস্তি মিলবে সেপ্টেম্বর মাসে। এ, বি এবং সি গ্রুপের কর্মীদের টাকা জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের টাকা সরাসরি বেতন অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অসন্তোষের কেন্দ্রে ‘অসম্পূর্ণ’ হিসেব
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ রাজ্যকে মেটাতেই হবে। কিন্তু কর্মীদের অভিযোগ, পোর্টালের মাধ্যমে বকেয়া টাকার পরিমাণ জেনে নেওয়ার পরেও সরকার সেই অঙ্ক ছাঁটাই করছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের দাবি, ‘অল ইন্ডিয়া কনজিউমার ইনডেক্স’ মেনে যে পরিমাণ টাকা পাওয়ার কথা, আদতে তা মিলছে না।
মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের স্পষ্ট অভিযোগ, “যেখানে রাজ্য সরকারের ১০০ টাকা দেওয়ার কথা, সেখানে তারা পাঠিয়েছে মাত্র ৫৩ টাকা।” অর্থাৎ, প্রাপ্যর প্রায় অর্ধেক টাকা দিয়ে দায় সারছে সরকার— এই অভিযোগেই এখন সরব বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন।
রোপার বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য ও সরকারি কর্মীদের এই সংঘাত দীর্ঘদিনের। আদালতের নির্দেশে টাকা মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও ‘বঞ্চনার’ ছায়া কাটছে না। সংগঠনগুলির দাবি, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে হিসেব ভুল করছে। এই অনিয়মের প্রতিবাদে এবং সঠিক পাওনার দাবিতে শীঘ্রই অর্থ দপ্তরকে চিঠি দিতে চলেছে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলো।
ভোটের মুখে রাজ্য সরকারের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ শেষ পর্যন্ত কর্মীদের মন জয়ে সফল হবে না কি ‘কম টাকা’ দেওয়ার অভিযোগে নতুন করে বিদ্ধ হবে, এখন সেটাই দেখার।