দ্য ওয়াল ব্যুরো: অদ্ভুত রহস্যে মোড়া এক দেশ আফ্রিকা। প্রকৃতির রহস্যের পাশাপাশি হাজার উপজাতির মানুষের মধ্যেও কম রহস্য লুকিয়ে নেই। শোনা যায়, সে দেশে এখনও নানা কারণে গণহারে নরসংহার করা হয়। কোথাও মানুষের মাংস খাওয়া হয়, তো কোথাও মানুষের রক্ত কাজে লাগানো হয়। এ সবই প্রায় শোনা কথা। অন্দরের সত্যিটা জানা খুবই কঠিন।
কিন্তু আফ্রিকার দেশ মালির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রত্যন্ত শহর ফানায় একরকম লোকচক্ষুর সামনে দু'বছর ধরে খুন হয়ে আসছেন একের পর এক মানুষ। অতি নৃশংস ভাবে তাঁদের গলা কেটে ফেলে রাখা হচ্ছে প্রকাশ্যে। ২০১৮ সাল থেকে এই শহরে একই কায়দায় মানুষ খুন হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় একশো মানুষ এভাবেই খুন হয়েছে। কারা ঘটাচ্ছে এই কাজ, কেনই বা ঘটাচ্ছে, সে নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে পুলিশ ও প্রশাসন।

এলাকার এক প্রৌঢ় বাউবাউ সাঙ্গারে একটা জায়গা দেখিয়ে জানান, এ বছরের ১০ জুন সকালে ঠিক ওই জায়গাতেই তাঁর ভাই বাকারির ছিন্ন মাথা পড়েছিল। পাশেই ছিল ধড়টিও। এমন ৪০ বছর বয়সি বাকারি ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য। সাঙ্গারে এই দৃশ্য দেখে খবর দেন পুলিশে। পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি লোহার রড পেয়েছিল। বাড়ির পেছনের দিকে মিলেছিল কয়েক ফোঁটা রক্ত। অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার, ওভাবে কাটা মাথার পাশে কোনও রক্তের চিহ্ন নেই।

একের পর এক এমন হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে পুলিশকর্তারা হতবাক। তাঁরা বলছেন, প্রায় একই কায়দায় খুনগুলো হচ্ছে। সম্ভবত ধারালো ছুরি বা কুড়ুলজাতীয় কোনও অস্ত্র দিয়ে ধড় থেকে মাথা ছিন্ন করা হয় এক কোপে। প্রতিবারই সকালে পাওয়া যাচ্ছে লাশগুলো। আর কোনও লাশের পাশেই রক্তের চিহ্ন মেলে না!
কারা মারা যাচ্ছেন, তা নিয়েও কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না পুলিশ। কারণ এই প্রাক্তন সেনা যেমন খুন হয়েছেন, তেমনই এর আগে এখ গৃহবধূকেও এভাবে গলা কেটে মারা হয়েছে। রেহাই পায়নি ৫ বছরের ও ২ বছরের দুটি শিশুও। তাদের খুনের কোনও কারণ বোঝা যায়নি।

পুলিশের ধারণা, খুনিরা সম্ভবত খুন করে রক্ত সংগ্রহ করে শরীর থেকে। কিন্তু ঠিক কী কারণে খুনগুলো করা হচ্ছে, তার কোনও সূত্রই তাদের কাছে নেই। নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও শহরটিতে একের পর এক একই কায়দায় খুন হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ইতিমধ্যেই অতিপ্রাকৃত কোনও কিছুর ওপর বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন। তাঁরা বলছেন, ফানা শহরটির উপর কারও অভিশাপ পড়েছে।
ফানা শহরটিতে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের বাস। রহস্যময় খুনের ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। রাতের অন্ধকারে কেউই প্রায় বেরোন না বাড়ি থেকে। এভাবে কত দিন চলবে, কবেই বা রহস্যের উদ্ঘাটন হবে, তা কেউ জানে না।

তদন্তকারীদের একাংশ জানিয়েছেন, হয় ঘৃণ্য কোনও প্রথার শিকার এই মানুষগুলি নয়তো কেউ বা কারা স্রেফ প্রতিশোধ নিচ্ছে একনাগাড়ে। ২০১৮ থেকে মোট ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ এই ঘটনায়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে না কোনও প্রমাণ মিলেছে, না খুন বন্ধ হয়েছে।
এক তদন্তকারী বৌবাকার ডায়ারার কথায়, "পৃথিবীর অন্য সব জায়গায় যেভাবে এ ধরনের অপরাধের তদন্ত হয়, আমরা এখানে তা করতে পারব না। এই প্রত্যন্তে অনেক কিছুই সম্ভব নয়। শহরজুড়ে আলো ও সিসিটিভি লাগানোও মুশকিল। সাধারণ মানুষও একেবারেই সহযোগিতা করেন না পুলিশের সঙ্গে। তাঁরা কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। ওঁরা মনে করেন, এ নিয়ে যিনি কথা বলবেন, তিনিই খুন হয়ে যাবেন।"