দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার পুদুচেরির এক কলেজে ছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। এক ছাত্রী ভিড়ের মধ্যে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বলেছিল, "স্যার, আই অ্যাম হিয়ার।" রাহুল তাকে বলেন, "আমার নাম স্যার নয়। আমার নাম রাহুল। দয়া করে আমাকে রাহুল বলে ডাকবে।" সেকথা শুনে ছাত্রীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। ছাত্রীদের সঙ্গে রাহুলের কথোপকথনের ভিডিও কংগ্রেসের ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়েছে।
রাহুল এদিন ভারতীসদন গভর্নমেন্ট কলেজ ফর উওমেনের ছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, "তোমরা কলেজের প্রিন্সিপালকে স্যার বলতে পার। শিক্ষকদেরও স্যার বলতে পার। কিন্তু আমাকে রাহুল বলবে।" যে ছাত্রীটি তাঁকে স্যার বলেছিল, সে পরে মাইক্রোফনের সামনে বলে, স্যার, আমরা কি আপনাকে রাহুল আন্না বলতে পারি? রাহুল বলেন, এটা ভাল কথা। তোমরা আমাকে রাহুল আন্না বলতে পার।
ভিডিওটি ইতিমধ্যে ২৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। কংগ্রেস থেকে ভিডিও-র নাম দেওয়া হয়েছে 'এ ক্যানডিড মোমেন্ট'।
আগামী মে মাসে পুদুচেরিতে ভোট হবে। রাহুল তার প্রচারের সূচনা করতে গিয়েছেন। পুদুচেরিতে সদ্য গরিষ্ঠতা হারিয়েছে কংগ্রেস সরকার। দলের চার বিধায়ক সম্প্রতি ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু'জন ইস্তফা দিয়েছেন সোম ও মঙ্গলবার। এর ফলেই সরকার গরিষ্ঠতা হারিয়েছে।
পুদুচেরি বিধানসভায় নির্বাচিত বিধায়কের সংখ্যা ৩০। কংগ্রেসের ছিল ১৪ জন বিধায়ক। এছাড়া ডিএমকে-র দু'জন ও এক নির্দল বিধায়ক কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলেন। সরকার গড়তে সেখানে চাই ১৬ জন বিধায়কের সমর্থন। কংগ্রেসের পক্ষে ছিলেন ১৭ জন।
কংগ্রেসের চারজন ইস্তফা দেওয়ার পরে সরকার ও বিরোধী, উভয়পক্ষেই ১৪ জন করে বিধায়ক আছেন। এখন কংগ্রেস বিধায়কের সংখ্যা ১০। বিধানসভায় আছেন মোট ২৮ জন বিধায়ক। এই অবস্থায় গরিষ্ঠতা পেতে হলে ১৫ জন বিধায়কের সমর্থন চাই।
কংগ্রেসের যে চারজন ইস্তফা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এ নমোশিবম এবং এ থেপ্পাইনজান বিধায়ক পদ ছাড়েন ২৫ জানুয়ারি। দু'জনেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সোমবার বিধায়ক পদ ছেড়েছিলেন মাল্লাদি কৃষ্ণা রাও। মঙ্গলবার পদ ছেড়েছেন জন কুমার। এন ধনভেলু নামে এক বিধায়ক গত বছরেই দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য ডিসকোয়ালিফায়েড হয়েছিলেন।
মাল্লাদি কৃষ্ণ রাও গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লি গিয়েছিলেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করেন, লেফটেন্যান্ট গভর্নর কিরণ বেদিকে পুদুচেরি থেকে ফিরিয়ে আনা হোক। তার পরেই তিনি ইস্তফা দেওয়ায় অবাক হয়েছেন অনেকে। এ নমোশিবম একসময় পুদুচেরিতে কংগ্রেসের প্রধান ছিলেন। কেন্দ্রশাসিত ওই অঞ্চলে কংগ্রেসের শক্তি সংহত করার কাজে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন কংগ্রেসকর্মী দল ছেড়েছেন।
কয়েক বছর ধরেই কংগ্রেসে বিক্ষুব্ধ ছিলেন নমোশিবম। ২০১৬ সালে ভোটের সময় শোনা গিয়েছিল, তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। কিন্তু সেই পদ পান ভি নারায়ণস্বামী। তিনি ভোটেই প্রার্থীই ছিলেন না। পরে প্রদেশ কংগ্রেস প্রধানের দায়িত্বও নমোশিবম পাননি। সেই পদটি পেয়েছিলেন এ ভি সুব্রহ্মণ্যম।