
শেষ আপডেট: 12 December 2023 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: মহালয়ার একমাস পর কালীপুজো হয় না এখানে। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মুর্শিদাবাদের রানিনগরের দুর্গাপুর চরে কালীপুজো হয় ডিসেম্বরের শীতে। বুধবার পুজো। তাই উৎসবের আমেজ গোটা গ্রামে। মেলা, সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে।
পুজো কমিটির সম্পাদক দ্বিজেন মণ্ডল জানিয়েছেন, এই কালীপুজোর বয়স ৬৭ বছর। বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার টলটলিতে এই কালীপুজোর সূচনা হয়। ব্রিটিশদের শাসনাধীন ভারতে তেওয়ারি পরিবারের কুঞ্জুলাল তেওয়ারি ওই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা।
টলটলিতে তখন চাঁই সম্প্রদায় মানুষের বসবাস ছিল। নবাবী শাসনে বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলায় এসেছিল এই সম্প্রদায়ের মানুষ। যুদ্ধে পারদর্শী হওয়ায় নবাবদের সেনায় যোগ দেন। নবাবী শাসন অবসানের পরে চাঁইরা কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। কৃষিকাজ, পশুপালন করে জীবন নির্বাহ করতে থাকেন। পরে এই এলাকায় চাঁইরা তেওয়ারি বংশের অনুগত জজমান হিসাবে কাজ করা শুরু করেন। তাঁদের নিয়ে পুজো শুরু করেন তেওয়ারিরা।
চর দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুকুল চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে হিন্দুরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসতে শুরু করেছিলেন। টলটলি থেকে যাঁরা চর দুর্গাপুরে এসে ঠাঁই নিলেন, তাঁদের কয়েকজনকে দেবী স্বপ্নে দেখা দেন। সেখানে দেবী, তাঁকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই স্বপ্নাদেশ পেতেই ১৯৫৬ সালে দেবীর কাঠামো চর দুর্গাপুরে আনানো হয়। সেই থেকে চর দুর্গাপুরে শুরু হয় কালীপুজো।
এলাকার যুবক মুকলেম শেখ জানিয়েছেন, '' চর দুর্গাপুর ও সংলগ্ন এলাকায় মেলা বসে। এই সময়ের জন্য এলাকার মানুষ সারা বছর অপেক্ষা করেন। ফলে পুজোর আয়োজনে উৎসাহ পাই।”
চর দুর্গাপুর যে কালী প্রতিমা রয়েছে, সেটির উচ্চতা ২৫ ফুটের বেশি। এলাকার মানুষের বিশ্বাস এখানে মানত করলে মনোস্কামনা পূরণ হয়। তাই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এখানে মানত করতে। যাঁরা মানত করেন তাঁদের প্রতি জনের জন্য একটি করে প্রতিমা গড়া হয়। এবছর একই সঙ্গে ছোট ও একটি বড় প্রতিমা মিলিয়ে ৪০টি কালী প্রতিমার পুজো হবে একই মণ্ডপে।