মুম্বইয়ে আগাম বর্ষায় রাস্তাঘাট ডুবেছে জলে, ব্যাহত উড়ান ও ট্রেন পরিষেবা। বাংলায় বৃষ্টি কবে? জানুন বিস্তারিত পূর্বাভাস।
.jpeg.webp)
বাংলায় আসছে বর্ষা।
শেষ আপডেট: 26 May 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের পশ্চিম উপকূলে বর্ষা আগেভাগেই দেখা দিয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়েছে মুম্বই ও সংলগ্ন এলাকায়। রাস্তাঘাট ডুবে গিয়েছে জলে়, গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ। ইতিমধ্যেই শহরের নীচু এলাকাগুলি যেমন কুরলা, সিয়ন, দাদর, পারেলে হাঁটু জল জমেছে। অফিসগামী ও স্কুল পড়ুয়াদের অবস্থা সব থেকে করুণ। লোকাল ট্রেন পরিষেবাও ব্যাহত, তিনটি প্রধান রুটে ট্রেন চলছে দেরিতে।
এদিকে দেশের পূর্বপ্রান্তের বাংলার আকাশেও মুখভার করে আনাগোনা করছে মেঘের দল। ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজছে রাজ্যের ইতিউতি। এখন প্রশ্ন, বাংলায় কবে ঢুকছে বর্ষা? বৃষ্টির দাপট ঠিক কবে থেকে শুরু হবে?
কেরলে বর্ষা ঢুকেছে প্রায় আটদিন আগে। মুম্বইতে ঢুকেছে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই। উত্তর-পূর্ব ভারতেও প্রবেশ করেছে মৌসুমি বায়ু। আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বর্ষা পৌঁছে গিয়েছে ১৩ মে।
বাংলার উত্তরবঙ্গে বর্ষা ঢোকার অপেক্ষা আর কিছু দিনের। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বর্ষা ঢুকবে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায়। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুরে শুরু হয়েছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে বইতে পারে দমকা হাওয়া।
বিশেষত বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত চলবে এই বৃষ্টির ধারা। ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে।
কলকাতার আকাশ সোমবার থেকেই আংশিক মেঘলা। আবহাওয়ায় অস্বস্তি থাকলেও বিকেল থেকে রাতের দিকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
দক্ষিণবঙ্গে আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। বৃহস্পতিবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার ও শনিবার প্রায় সব জেলাতেই চলবে টানা বৃষ্টি। বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও দুই বর্ধমানেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ২৭ মে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তর বঙ্গোপসাগরের কাছে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে উপকূলের দিকে এগোবে। ফলে বুধবার থেকে উত্তাল থাকবে সমুদ্র। সেই কারণে বাংলা ও ওড়িশার উপকূলে গভীর সমুদ্রে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আরব সাগরের গভীর নিম্নচাপ ইতিমধ্যেই স্থলভাগে ঢুকে মধ্য মহারাষ্ট্রে অবস্থান করছে। এটি আগামী দিনে কর্নাটকের দিকে সরে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে।
ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। কেরল, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, আন্দামান-নিকোবর, গোয়া ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে বৃষ্টির দাপট বাড়ছে। আগামী কয়েকদিন দিল্লি, পাঞ্জাব, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগড় সহ অনেক রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। রাজস্থানে ধুলোঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলায় মৌসুমি বায়ু ঢুকতে চলেছে কয়েকদিনের মধ্যেই। তার আগে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে একাধিক দফায় বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর। প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে।
আবহাওয়া দফতর জানায়, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে নরিম্যান পয়েন্টে ১০৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। রানওয়েতে জল জমে যাওয়ার ফলে প্রায় ২৫০টিরও বেশি উড়ান বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। অন্ধকার মেঘে ঢেকে রয়েছে গোটা আকাশ, ফলে দিনে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে স্বয়ং পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছেন। মুম্বই ও ঠানে পুরসভা ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন তিনি।
এই বৃষ্টির ধাক্কা পৌঁছেছে কর্নাটকেও। বেলাগাভিতে একটি বাড়ির দেওয়াল ধসে মৃত্যু হয়েছে তিন বছরের একটি শিশুকন্যার। আহত হয়েছেন মা ও ছোট বোন। ম্যাঙ্গালুরু শহরও জলমগ্ন। বেঙ্গালুরুতে হালকা বৃষ্টি হলেও আগামী তিনদিন সেখানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন।