
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 3 August 2024 10:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগাড়়ে বৃষ্টি। তাতে বিপর্যস্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। জলে ভেসে শনিবার রাতে আসানসোলের কল্যাণপুরে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির।
এদিকে গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী, কংসাবতী-সহ জেলায় জেলায় একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে কার্যত ফুঁসতে শুরু করেছে। যার জেরে দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, হুগলি এবং বর্ধমানের একাধিক এলাকা ইতিমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
তার ওপর শুক্রবার রাত থেকে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার কাজ শুরু হয়েছে। ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডিভিসি ও মাইথন থেকে সম্প্রতি ৬ হাজার কিউসেক করে জল ছাড়া হয়েছিল। শুক্রবার থেকে সেই জলই ছাড়ার কাজ শুরু করেছে দুর্গাপুর ব্যারেজ। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার কথা জানা গেছে। সেক্ষেত্রে সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জলমগ্ন এলাকায় নামানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে।
জানা গেছে, শনিবার আসানসোলের কল্যাণপুরে গাড়ুই সেতু জলমগ্ন ছিল। শনিবার রাতে চারচাকা নিয়ে ওই সেতু পারাপার করতে গিয়ে গাড়ি সমেত ভেসে যান চঞ্চল বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি। এদিন সকালে নদীর অদূরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে। এদিকে ঝুমি নদীর জল বেড়ে গিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঝাড়গ্রামের সুবর্ণরেখার নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সাঁকরাইল ও নয়াগ্রাম যাতায়াতের ফেয়ার ওয়েদার সেতু ভেসে গিয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দুটি এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষের সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
দেরিতে বর্ষা আসায় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে এবারে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি। তার অনেকটাই পূরণ করে দিয়েছে। উল্টে তৈরি হয়েছে বন্যার আশঙ্কা। এদিকে বাংলার আকাশে রয়েছে নিম্নচাপ। যার দাপটে আগামী কয়েকদিনও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।