ফলে একদিকে যেমন জরিমানার অঙ্ক বাড়বে, তেমনই বিমা ছাড়া গাড়ি চালানোর প্রবণতাও কমবে বলে আশা করছেন পুলিশ কর্তারা।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 20 January 2026 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর ফিক্সড ফাইন নয়। বিমা না থাকলে জরিমানার অঙ্ক ঠিক হবে গাড়ির বিমার প্রিমিয়ামের উপর ভিত্তি করে (major changes to curb surge in uninsured vehicles) । পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা দেশেই এমন আইন আনতে চলেছে কেন্দ্র (Motor Vehicles Act)।
রাস্তায় বিমাবিহীন গাড়ির দাপট কমাতে রোড সেফটি কাউন্সিলের এই প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই সায় দিয়েছে অধিকাংশ রাজ্য। সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখেই চলতি মোটর ভেহিকেলস আইনে সংশোধন আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
দু’চাকার যানের দাপটে ভরা বাংলার রাস্তা। অভিযোগ, তার বড় অংশই চলছে বিমা ছাড়াই। শুধু বাইক নয়, বহু পণ্যবাহী লরি কিংবা যাত্রীবাহী বেসরকারি বাসও মেয়াদ উত্তীর্ণ বিমা নিয়েই রাস্তায় নেমে পড়ছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা নিহতের পরিবার ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিমাবিহীন গাড়ির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, এই পরিস্থিতিতেই কড়া ব্যবস্থা নিতে চাইছে প্রশাসন।
বর্তমান মোটর ভেহিকেলস আইনে রেজিস্ট্রেশন বা পারমিট না থাকলে গাড়ি আটক করা গেলেও, বিমা না থাকলে পুলিশের হাতে সেই ক্ষমতা নেই। জরিমানা করা যায় বটে, কিন্তু তার অঙ্ক নির্দিষ্ট। একই অপরাধ বারবার করলেও ফাইনের পরিমাণ বদলায় না। এই ফাঁক গলেই বহু গাড়ি মালিক নিয়ম ভেঙে চলছেন বলে পুলিশের অভিযোগ।
এই সমস্যা দূর করতে রোড সেফটি কাউন্সিলের বৈঠকে পুলিশ কর্তাদের তরফে বারবার প্রস্তাব ওঠে, জরিমানার অঙ্ক হোক বিমার প্রিমিয়ামের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ, শেষবার গাড়িটির জন্য যত টাকার প্রিমিয়াম দেওয়া হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই ঠিক হবে ফাইন। একই অপরাধ পুনরাবৃত্তি হলে সেই প্রিমিয়ামের দুই বা তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, গাড়ির মালিককে বিমা করাতে বাধ্য করা।
এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের কাছে। সেখান থেকে সমস্ত রাজ্যের মতামত চাওয়া হয়। সূত্রের খবর, বেশিরভাগ রাজ্যই এই বদলের পক্ষে। নতুন আইনে ফিক্সড ফাইনের ধারণা উঠে যাবে বলেই ইঙ্গিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সংশোধিত আইনে বিমাবিহীন গাড়ি আটক করার ক্ষমতাও পুলিশের হাতে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন জরিমানার অঙ্ক বাড়বে, তেমনই বিমা ছাড়া গাড়ি চালানোর প্রবণতাও কমবে বলে আশা করছেন পুলিশ কর্তারা। রাস্তায় নামার আগে বিমার কাগজ ঠিকঠাক আছে কি না, তা এবার ভালো করে দেখে নেওয়ার সময় এসে গিয়েছে বলেই মনে করছে প্রশাসন।