মা-বাবা' নয়, 'মা-মা' হতে পারবেন সমকামী মহিলারা, গোঁড়ামি ভাঙতে চলেছে ফ্রান্স
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাঙছে গোঁড়ামি। ক্রমশ উন্মুক্ত হচ্ছে চিন্তার আকাশ, ভাবনার পরিসর। ফ্রান্সে সমকামী বিয়ে আইনত স্বীকৃতি পেয়েছিল ২০১৩ সালেই। তার পরেও একটা ছুঁৎমার্গ বিভাজন তৈরি করে রেখেছিল সমাজের মাঝ বরাবর। এ বার সেই পর্দা সরিয়ে দিতে চলেছেন ফ্র
শেষ আপডেট: 22 September 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাঙছে গোঁড়ামি। ক্রমশ উন্মুক্ত হচ্ছে চিন্তার আকাশ, ভাবনার পরিসর। ফ্রান্সে সমকামী বিয়ে আইনত স্বীকৃতি পেয়েছিল ২০১৩ সালেই। তার পরেও একটা ছুঁৎমার্গ বিভাজন তৈরি করে রেখেছিল সমাজের মাঝ বরাবর। এ বার সেই পর্দা সরিয়ে দিতে চলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁকর। এতদিন কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি বা আইভিএফ (ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন)-এর নির্দিষ্ট বিধি ছিল। এ বার থেকে সমকামী মহিলা এবং সিঙ্গল মাদাররাও পাবেন আইভিএফের সুবিধা। আগামী বছর থেকেই এই আইন আনতে চলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।
২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট পদের দৌড়ের সময়েই সমকামী মহিলাদের জন্য এই ছাড়পত্র আনার কথা বলেছিলেন ইমানুয়েল মাঁকর। তবে বিষয়টা ছিল প্রতিশ্রুতিতেই বন্দি। আইনত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এই ব্যাপারে সংশোধনী বিল আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সমকামী মহিলাদের মাতৃত্বের স্বাদ দিতে আইভিএফ পদ্ধতিতে আরও কোনও বিধি নিষেধ থাকবে না। একই সুবিধা নিতে পারবেন সিঙ্গল মাদাররাও।
ফ্রান্সে সমকামিতাকে আইনত বৈধতা দিলেও, সমাজিক ভাবে বহু ক্ষেত্রেই সমকামী দম্পতিরা বৈষম্যের শিকার বলে দাবি উঠেছিল অনেক বার। চলতি বছরেই ফ্রান্সের জাতীয় আইনসভায় একটি সংশোধনী প্রস্তাব এনেছিলেন শাসক দলের এমপি ভ্যালেরি পেতি। তাতে বলা হয়েছিল, সমকামী যুগলরা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে গেলে নানা রকম জটিলতার মুখে পড়েন। অভিভাবকদের সই করার জায়গায় বাবা-মায়ের বদলে এ বার থেকে অভিভাবক-১, অভিভাবক-২ লেখার জায়গা থাকুক। সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে এর মধ্যে। তবে সমকামী মহিলাদের সন্তানধারণের ছাড়পত্র দিতে আইনত কোনও চেষ্টা হয়নি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বিল পাশ হয়ে গেলে সমকামী মহিলারা পুরো মাত্রায় কৃত্রিম প্রজননের সাহায্য নিয়ে মা হতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ডিম্বাণু সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা যাবে। মধ্য ত্রিশের মহিলারা প্রয়োজনে তাঁদের ডিম্বানু সংরক্ষণ করতে পারেন। এমনকী সমকামী মহিলার সন্তানের জন্ম শংসাপত্রে 'বাবা-মা'-এর জায়গায় 'মা-মা' অর্থাৎ দুই মায়ের নামই লেখা যাবে। স্কুল-কলেজে ভর্তির ফর্মেও একই ভাবে দুই মায়ের নাম লেখা যাবে। সিঙ্গল-মাদাররাও পাবেন এই সুবিধা।
তবে অন্য মতও রয়েছে। বামপন্থী ও মধ্যপন্থীরা এই প্রস্তাবে সায় দিলেও বেজায় চটেছেন রক্ষণশীল এবং ক্যাথলিকরা। এমনকি প্রশ্ন উঠেছে ম্যাক্রনের প্রশাসনের অন্দরেও। অনেকেরই দাবি, এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার গণ্ডির বাইরে গিয়ে কাজ করছে। সন্তানরা এর পরে পিতৃ পরিচয় নিয়ে বিশেষ চিন্তাভাবনা করবে না। ফ্রান্সে এখন সিঙ্গল পেরেন্টদের সংখ্যা বাড়ছে।এই আইনি সুবিধা পরিবারতন্ত্রকে নষ্ট করে দেবে। এই বিভাজন অভিভাবকদের মধ্যেও বৈষম্য তৈরি করতে পারে।
বস্তুত, সরকার এই দাবিতে শিলমোহর দিতে রাজি নয়। মাঁকরের প্রশাসন জানিয়েছে, সমকামী দম্পতিরা যাতে সমাজ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন না করেন তাই এই প্রচেষ্টা। শুধু আইনি পথেই নয়, সমকামী মহিলাদের মাতৃত্বের স্বাদ দিতে পারলে সামাজিক ভাবনাতেও অনেক বদল আসবে।