
শেষ আপডেট: 30 August 2023 10:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের দক্ষিণ পিঠে (Moon South Pole) কে আগে নামবে সেই নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। রাশিয়ার চন্দ্রযান দুরন্ত গতিতে ছুটছে, ভারতের চন্দ্রযান (Chandrayaan-3) খানিক পিছিয়ে থাকলেও চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামবেই সে। নিকষ কালো আঁধারে ঘেরা চাঁদের এই দক্ষিণ পিঠ। এবড়ো খেবড়ো ভূমি। ভয়ানক উত্তেজিত এই অঞ্চলের মাটি, ধূলিকণা রেগোলিথ। সূর্য স্পর্শ করে না চাঁদের এই পিঠকে। এখানে অবতরণ করাও বিপজ্জনক। বিপদ হতে পারে যে কোনও মুহূর্তে। কিন্তু তাও চাঁদের এই দক্ষিণ পিঠে নামতেই এত হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে সব দেশের। ভারত-রাশিয়া চাঁদ ছোঁয়ার পর আমেরিকার নাসাও পাড়ি দেবে চাঁদে। মানুষ নিয়ে চাঁদে যাওয়ার বড় পরিকল্পনা আছে নাসার।
চাঁদের দক্ষিণ মেরু (Moon South Pole) যেন গুপ্তধনের আরত। পরতে পরতে রহস্য জড়িয়ে রয়েছে এর অন্ধকার, হিমশীতল, পাথুরে কণায়। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলেন, তেজস্ক্রিয় মৌলের ভাণ্ডার রয়েছে চন্দ্রপৃষ্ঠের ওই রুদ্ধদ্বারে। পৃথিবী সৃষ্টির রহস্যে নাকি সেখানেই সুপ্ত।

শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। ইসরোর ‘অ্যাস্ট্রোস্যাট’ উপগ্রহ দিয়ে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্থির করেছিল প্রতিরক্ষা, নজরদারি আর আবহাওয়া পূর্বাভাসেই আটকে থাকবে না ভারতের মহাকাশ-অভিযান। মহাকাশের গভীর থেকে গভীরতর কক্ষের কপাট খুলবে ইসরো। মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে যাবে ব্রহ্মাণ্ডের অজানা, অচেনা মুলুকে। পৃথিবী সৃষ্টির জট যদি খুলতে হয়, তাহলে প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত চাঁদ। কারণ চাঁদ ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণের সম্ভাবনাই থাকত না।

ইসরোর মহাকাশবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোটি কোটি বছর ধরে দক্ষিণ মেরু (Moon South Pole) সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত। সৌরগজগতের অনেক গোপন রহস্যের বীজ বুনে চলেছে সন্তর্পনে। আমাদের নীল গ্রহের জন্মরহস্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও সেখানে মেলা সম্ভব। পৃথিবীর আত্মজা হল চাঁদ। ২৪ ঘণ্টায় পৃথিবীতে যে দিন-রাতের চক্র ঘুরে চলেছে সেটাও সম্ভব হচ্ছে চাঁদের অভিকর্ষজ বলের জন্যই। এই টানের কারণেই পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি একটু একটু করে কমছে, বিপরীতে বাড়ছে পৃথিবীর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য। মহাসাগরে জোয়ার-ভাঁটা থেকে পৃথিবীর ঋতুচক্র— সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করছে চাঁদ। কাজেই প্রাণ সৃষ্টির গোপন কথা সেখানেই নিহিত রয়েছে যত্ন করে।
পৃথিবীতে যে ভাবে জনবসতি বাড়ছে তাতে জীবাশ্ম জ্বালানিতে টান পড়তে বাধ্য। এ দিকে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলো অপ্রচলিত শক্তির (বায়ুমণ্ডল, সৌরশক্তি) বদলে সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে পরমাণু বিদ্যুতের উপর। সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভরসা পরমাণু চুল্লি বা নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর। বিভাজন প্রক্রিয়া বা নিউক্লিয়ার ফিউশনের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় মৌল ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, প্ল্যাটিনামকে জ্বালি-পুড়িয়ে তৈরি হয় বিপুল পরিমাণ শক্তি। কিন্তু, যে ভাবে যথেচ্ছ পরিমাণ তেজস্ক্রিয় মৌল ব্যবহার হচ্ছে গোটা বিশ্ব জুড়ে, তাতে অচিরেই সেই ভাঁড়ার খালি হয়ে যাবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে তেজস্ক্রিয় মৌলের বড়সড় ভাঁড়ার রয়েছে। যার লোভেই আমেরিকা, রাশিয়া, চিন বারে বারেই অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছে চন্দ্রপৃষ্ঠের দক্ষিণ ভাগে।
আরও পড়ুন: অহঙ্কারী টি-পট! বিশ্বের সবচেয়ে দামি টি-পট বানিয়ে ফেললেন ‘কলকাতার ছেলে’ নির্মল
১০ কোটি টন জল রয়েছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে (৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশ), (Moon South Pole) এমনটাই দাবি মহাকাশবিজ্ঞানীদের। চাঁদ তার কক্ষপথে সামানঅয় হেলে থাকায়, সূর্যের আলো যতটা উত্তর মেরুতে এসে পড়ে, ততটা দক্ষিণ মেরুতে পড়ে না। ফলে চাঁদের ওই অংশে সৌর বিকিরণের প্রভাব অনেকটাই কম। বিজ্ঞানীদের ধারণা, তরল জলের সবচেয়ে বড় সঞ্চয় রয়েছে চাঁদের ওই ৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশেই। আর সেখানেই ল্যান্ড করবে ভারতের চন্দ্রযান।