দ্য ওয়াল ব্যুরো : কালো টাকা বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনব দেশে। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী। তিনি ক্ষমতায় আসার পরে প্ৰথম তিন বছরে সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের টাকা জমানোর প্রবণতা কমে গিয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে সেখানে ভারতীয়দের জমা টাকার পরিমাণ আচমকা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এই তথ্য জানাজানি হওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযুষ গোয়েল মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, চলতি আর্থিক বছরের মধ্যেই আমরা জানতে পারব কারা সুইস ব্যাঙ্কে টাকা রেখেছে। কেউ যদি দোষী হয় তাহলে ছাড়া পাবে না।
সুইস ব্যাঙ্কে আমানতকারী সম্পর্কে সব তথ্য গোপন রাখা হয়। সেজন্য কালো টাকা জমানোর নির্ভরযোগ্য জায়গা হল ওই ব্যাঙ্ক।
সুইস ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২০১৭ সালে ভারতীয়রা ১০১ কোটি সুই ফ্রাঁ, অর্থাৎ সাত হাজার কোটি টাকা জমা দিয়েছেন। ২০১৬ সালে ভারতীয়রা জমা দিয়েছিলেন ৪৫০০ কোটি টাকা।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কয়েক বছর আগে বিদেশে গচ্ছিত টাকা ফেরত আনার জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠিত হয়। তার প্রতিনিধিরা সুইস সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেন। সুইজারল্যান্ডের সরকার বলে, ভারত সরকার যদি নির্দিষ্ট প্রমাণ দেখতে পারে যে, কোনও ভারতীয় অসাধু উপায়ে টাকা উপার্জন করে তাদের দেশের ব্যাঙ্কে জমা রেখেছে, তা হলে সেই আমানতকারী সম্পর্কে সব তথ্য জানিয়ে দেবে। পরবর্তীকালে ওই ব্যাঙ্ক জানায়, প্রায়জন হলে ভারত সরকারের সঙ্গে আরও বেশি সহযোগিতা করবে।
ভারত সরকারের প্রতিনিধিরা যখন সুইজারল্যান্ডের সরকারের সঙ্গে এই আলোচনা চালাচ্ছেন, তখনই সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের টাকা গচ্ছিত রাখার পরিমাণ কমে যায়। অনেকেই ভেবেছিলেন, কালো টাকার মালিকরা এখন হংকং, সিঙ্গাপুরের মতো দেশে টাকা গচ্ছিত রাখছেন। তার পরে শোনা গেল, ফের সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের গচ্ছিত টাকার পরিমাণ বেড়েছে।