দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অংশীদারিত্ব বেচে সরকার যে বাজার থেকে অর্থ তুলতে চায় তা বাজেটে ঘোষিত নীতি। সরকারি সূত্রে খবর, লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়ামের বিলগ্নিকরণের জন্য বড় আশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে খবর, সংস্থার ৫২.৯৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রি করে ৯০ হাজার কোটি তোলার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এও জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত তিনটি সংস্থা বিপিসিএলের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার কিনে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রথমটি হল বেদান্তা গ্রুপ। এ ছাড়া রয়েছে দুটি মার্কিন ফান্ড – অ্যাপোলো গ্লোবাল এবং আই স্কোয়ারড ক্যাপিটাল। তারা ইতিমধ্যেই এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট পেশ করেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণের প্রক্রিয়া সেই বাজপেয়ী সরকারের আমল থেকেই চলছে। মনমোহন জমানায় তার অন্যথা হয়নি। আর কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের দর্শনই হল—ব্যবসা করা সরকারের কাজ নয়।
শুধু মোদী সরকার নয়, অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, ব্যবসা করা সরকারের কাজ নয়। সরকারের কাজ শিল্প সহায়ক ও ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা। তা ছাড়া অনেকের মতে, সরকারি এক্তিয়ারে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি হল, দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের ঘুঘুর বাসা। সেখানে পেশাদারিত্ব কর্পোরেট সংস্থার তুলনায় কম। সরকারের খিদমদ খাটতে গিয়েও সময় চলে যায়।
এই মতের ঘোর বিরোধী বাম দলগুলি। এমনকি যারা সরকারে থাকাকালীন কঠোর সংস্কারের চেষ্টা করেছিল, সেই কংগ্রেসও এখন সরকারের বাইরে গিয়ে বিলগ্নীকরণের বিরোধিতা করে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খুচরো জ্বালানি বিক্রেতা হল বিপিসিএল। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপিসিএলের মোট সম্পদের মূল্যায়ণ করেই ৫২.৯৮ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে ৯০ হাজার টাকা তোলার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। শুধু শেয়ারের মূল্য অনুযায়ী তা নির্ধারণ করা হয়নি। তা ছাড়া মূল্য নির্ধারণের সময় সমগোত্রীয় সংস্থার শেয়ার দামও বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যাপারটা শুধু মাত্র বেচে দেওয়া নয়।
বিপিসিএলের বেসরকারিকরণের বিষয়টি ডিপার্টমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট দফতরের অধীনে রয়েছে। সেই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ডেলয়েটকে ট্রান্সজ্যাকশন অ্যাডভাইজার করা হয়েছে।
সরকারের এক কর্তার কথায়, বিপিসিএল যারা কিনবে তারা শুধু ভারতের ২৫.৭৭ শতাংশ খুচরো জ্বালানি বাজারের দখল পাবে না, ১৫.৩ শতাংশ কাঁচা তেল পরিশোধনের ক্ষমতাও থাকবে তাদের কাছে। মুম্বই ও কোচিতে এই সংস্থার দুটি রিফাইনারি রয়েছে।
তবে এখন দেখার ঘরোয়া রাজনীতিতে এর কী প্রতিক্রিয়া হয়। এমনিতেই বিলগ্নীকরণ নিয়ে বামেরা বিরোধিতা করছেন। আর তৃণমূল স্লোগান তুলেছে, সব বেচে দে... সব বেচে দে।