প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (Cabinet Meeting) অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি (CCEA) পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের ৫টি জেলা জুড়ে বিস্তৃত ১৯২ কিলোমিটার রেললাইনের মাল্টি-ট্র্যাকিং (Multi Tracking Rail Line) প্রকল্পে সিলমোহর দিয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪,৪৭৪ কোটি টাকা।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 10 March 2026 18:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ১৪ মার্চ ব্রিগেডের ময়দানে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তার ঠিক কয়েক দিন আগেই পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় উন্নয়নের বার্তা দিলেন তিনি। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (Cabinet Meeting) অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি (CCEA) পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের ৫টি জেলা জুড়ে বিস্তৃত ১৯২ কিলোমিটার রেললাইনের মাল্টি-ট্র্যাকিং (Multi Tracking Rail Line) প্রকল্পে সিলমোহর দিয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪,৪৭৪ কোটি টাকা।
জোড়া রেল প্রকল্পে গতি
এদিন মন্ত্রিসভার অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছে দু’টি রুট:
১. সাঁইথিয়া – পাকুড় চতুর্থ লাইন
২. সাঁতরাগাছি – খড়গপুর চতুর্থ লাইন
প্রধানমন্ত্রী টুইট করে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলি পূর্ব ভারতে রেলের সক্ষমতা ও সংযোগ বাড়িয়ে তুলবে। তাঁর কথায়, “এই প্রকল্পগুলি রেলের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে, ভিড় কমাবে এবং রাজ্যগুলির মধ্যে যোগাযোগ আরও মজবুত করবে। পণ্য পরিবহণে সুবিধা হওয়ার পাশাপাশি এগুলি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করবে।”
পর্যটন ও বাণিজ্যে জোয়ার
রেল সূত্রের খবর, এই দুই প্রকল্পের ফলে বোলপুর-শান্তিনিকেতন, তারাপীঠ, শক্তিপীঠ নন্দীকেশ্বরী মন্দিরের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৫,৬৫২টি গ্রামের ১৪৭ লক্ষ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি কয়লা, পাথর ও সিমেন্ট পরিবহণের ক্ষেত্রেও বড় সুবিধা মিলবে।
রাজনীতির কারবারিদের নজর
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে ব্রিগেডের সভার ঠিক আগে এই বিপুল অঙ্কের রেল প্রকল্পের ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের ৫টি জেলার মানুষের কাছে মোদী সরকার উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিল বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বাংলার জন্য আর কী কী উপহারের ঝুলি সাজিয়ে আনেন।
কিন্তু ব্রিগেডের সভামঞ্চ নিয়ে আবার অনেক ইতিউতি শুরু হয়েছে। হাতে সময় মাত্র তিন দিন। আর তার মধ্যেই ব্রিগেডের ময়দানে খাড়া করা প্রধানমন্ত্রীর মূল সভামঞ্চটি খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন এসপিজি কর্তারা। মঙ্গলবার বিকেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অফিসারদের এই নির্দেশে রীতিমতো রক্তচাপ বেড়েছে রাজ্য বিজেপি নেতাদের।
কেন এই আকস্মিক নির্দেশ?
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার খাতিরে সভাস্থল পরিদর্শনে এসে এসপিজি কর্তারা জানান, যেখানে মঞ্চটি বাঁধা হয়েছে, সেখানকার মাটির নীচে গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মাটির গভীরে পরীক্ষা চালিয়ে দেখে নিতে চান গোয়েন্দারা যে, সেখানে কোনও বিপদের আশঙ্কা লুকিয়ে আছে কি না। নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বলয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে মঞ্চ রাখা সম্ভব নয়। আর সেই কারণেই তড়িঘড়ি কাঠের পাটাতন ও লোহার স্তম্ভের মূল কাঠামোটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এসপিজি সন্তুষ্ট হলেই ফের সবুজ সংকেত মিলবে।
শনিবার ব্রিগেডে মোদীর কর্মসূচি। সেই লক্ষ্যে গত রবিবার থেকেই কাজ শুরু হয়েছিল। বিশাল হ্যাঙারের নীচে মঞ্চের কাঠামো প্রায় দাঁড়িয়েও গিয়েছিল। এখন সেই মঞ্চ নতুন করে বাঁধার জন্য হাতে সময় বড্ড কম। তবে বিজেপি শিবিরের একাংশের দাবি, মঞ্চ নতুন করে গড়তে খুব বেশি সময় লাগবে না। বরং গোটা মাঠজুড়ে শালখুঁটির ব্যারিকেড দেওয়া, মাঠকে ব্লকে ভাগ করা এবং সাউন্ডবক্স বসানোর যে বিশাল কর্মকাণ্ড চলছে, তা সামলানোটাই বড় কাজ। মঞ্চ খোলার ঝক্কি সামলে নির্ধারিত সময়ে সব কাজ শেষ করা যাবে বলেই আশা করছেন বিজেপি নেতারা।