
শেষ আপডেট: 17 September 2021 09:01
যুক্তি অকাট্য। খণ্ডন করার উপায় নেই। তাই দ্বন্দ্ব চলছেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে এই নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল আলোচনা। মোবাইলের অধিকার নিয়ে একাধিক পোস্টে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া।
আরও পড়ুনঃ অভিনেতা সোনু সুদের বাড়িতে তৃতীয় দিন আয়কর হানা, সমালোচনা নানা মহলে
নেটিজেনদের 'চিন্তিত' পোস্টে লেখা, "মোবাইল কার আন্ডারে? বাবা বিশ্বকর্মা না মা সরস্বতীর? আজ সেই নিয়ে স্বর্গে হেব্বি ক্যাচাল"। পোস্টে উঠছে হাসির রোল, শেয়ারও হচ্ছে দেদার। হোয়াটস অ্যাপের স্ট্যাটাসেও উঠে আসছে স্বর্গের এই ঝামেলার প্রতিচ্ছবি।
আবার কেউ প্রশ্ন ছুঁড়ছেন, "সবাই গাড়ি ধুয়ে পুজো দিচ্ছে, আমার তো গাড়ি নেই, তাহলে আমি কি মোবাইল ধুয়ে পুজো দেব?" এমমন প্ৰশ্নও উঠে আসছে ফেসবুকের দেওয়ালে। যা নিয়ে তুমুল চর্চা মিম ভক্তদের মধ্যে।
তবে মর্ত্যের পুরোহিত মহলের কথায়, 'যন্ত্র হিসেবেই মোবাইলকে ধরা হয়। সেখানে এগিয়ে বিশ্বকর্মা।' পন্ডিত বারেশ্বর ভট্টাচার্য বলেন, "মোবাইলে পড়াশুনা থেকে শুরু করে সব কাজই চলে ঠিকই। কিন্তু যেহেতু যন্ত্র তাই মোবাইলকে বিশ্বকর্মা হিসেবেই পুজো করতে হবে। স্কুল-কলেজও তৈরি করতে যন্ত্রের প্ৰয়োজন হয়। কিন্তু আমরা তো বিদ্যার দেবীকেই আরাধনা করি। সেইভাবে ভাবতে গেলে মোবাইলকে যন্ত্র হিসেবেই বিশ্বকর্মা পুজো করতে হবে।"
সেই একই সুরে সুর মিলিয়ে মোবাইলকে বিশ্বকর্মার পক্ষেই সওয়াল করলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী। তাঁর কথায়, "যান্ত্রিকতার মধ্যে পুজোকে আনাই উচিৎ নয়। মোবাইল যেহেতু ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট তাই সেটি বিশ্বকর্মার দিকেই থাকবে।" এরপর তিনি রবীন্দ্রনাথের এক উক্তি টেনে বলেন, "বিশ্বকবি বলেইছেন বিশ্বকর্মা স্বর্গ রাজ্যের মিস্ত্রি। আমরা তো গাড়িতেও পড়াশুনা করি বা পড়াশুনার কাজে গাড়ি ব্যবহার করি, তাহলে কি সরস্বতী পুজো করব?"
অন্যদিকে, মোবাইল নিয়ে বিশ্বকর্মাকেই এগিয়ে রাখতে চান অভিনেত্রী সোনালি চৌধুরীও। তিনি বলেন, "মোবাইল তো বেসিক্যালি টেকনোলজি। হ্যাঁ এটাও ঠিক পড়াশুনা এখন আমরা অধিকাংশই মোবাইলে করি। কিন্তু মোবাইল খারাপ হলে তো আমাদেরকে সেই টেকনিশিয়ানদেরই শরণাপন্ন হতে হয়, সেই বিশ্বকর্মা। আজও আমি বইয়ের পাতা উল্টে পড়তে ভালোবাসি। সেইক্ষেত্রে বিশ্বকর্মাকেই এগিয়ে রাখব।"
কী বলছে বর্তমান প্রজন্ম? বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই মোবাইলকে যন্ত্র হিসেবে পুজো করা উচিৎ। পেশায় গৃহশিক্ষক পল্লব মুখোপাধ্যায় জানান, "মোবাইল তো যন্ত্র হিসেবই আমরা ব্যবহার করি। পড়াশুনার ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহার করলেও সেটা যন্ত্র। তাই বিশ্বকর্মার দিনেই পুজো করা উচিৎ মোবাইলের।"
এমনই সুর শোনা গেল সাংবাদিক পূজা বিশ্বাসের গলায়। তিনি বলেন, "মোবাইল যন্ত্র, তাই সেটিকে বিশ্বকর্মা হিসেবেই পুজো করব। তবে হ্যাঁ ইন্টারনেটকে আমরা সরস্বতী পুজোর দিন পুজো করতে পারি।" কিন্তু এই মোবাইলকে কোনো পুজোর ক্ষেত্রেই ফেলতে চান না টিউটোপিয়া নামে এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সুমিত দাস। তাঁর কথায়, "মোবাইলকে যন্ত্র হিসেবে আলাদাই রাখা উচিৎ। কোনো পুজোর মধ্যেই ফেলা ঠিক নয়।"
যদিও দড়ি টানাটানি অব্যহত। মোবাইলের পুজো নিয়ে চর্চাও অব্যহত। মর্ত্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তর্কও চলবে। তবুও মর্ত্যের অনেকের ভোটেই এগিয়ে বিশ্বকর্মাই।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'