ঘটনার পর থেকেই ছবির স্বামী প্রদীপ চক্রবর্তীর খোঁজ শুরু করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, স্ত্রীকে খুন করার পিছনে প্রদীপের হাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 January 2026 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন মহিলা। মঙ্গলবার তাঁরই কঙ্কালসার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় (Woman Dead Body Found) তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। দুর্গাপুরে (Durgapur) ঘটেছে এমন মারাত্মক ঘটনা। আর খুনের অভিযোগে মৃতার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম ছবি দাস (৫৫)। তিনি দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার হাসপাতালের আয়া হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর স্বামী প্রদীপ চক্রবর্তী আগে ঠিকাশ্রমিকের কাজ করলেও বর্তমানে বেকার ছিলেন। নিঃসন্তান এই দম্পতি দুর্গাপুর থানার সেক্টর-ডি মার্কেট সংলগ্ন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ের পাশেই একটি পরিত্যক্ত আবাসনে বসবাস করতেন।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ওই আবাসন থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে একটি ঘরে ঢোকেন। সেখানেই তাঁরা একটি কঙ্কালসার দেহ পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতদেহের উপর নুন ছড়ানো ছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, দেহ পচে যাওয়ার পর যাতে দুর্গন্ধ না বেরোয় তার জন্যই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। দেহটি সম্ভবত পরে অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনাও ছিল। নুন ঢালার কারণেই প্রথম দিকে দুর্গন্ধ ছড়ায়নি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ছবির মৃত্যু ঠিক কবে হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার পর থেকেই ছবির স্বামী প্রদীপ চক্রবর্তীর খোঁজ শুরু করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, স্ত্রীকে খুন করার পিছনে প্রদীপের হাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রতিবেশীদের দাবি, দম্পতির মধ্যে বড় কোনও অশান্তি আগে চোখে পড়েনি। তবে কয়েক দিন আগে তাঁদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল বলে কেউ কেউ জানিয়েছেন। তখন বিষয়টিকে সাধারণ দাম্পত্য কলহ বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। ছবির এক সহকর্মীর দাবি, বেশ কিছু দিন ধরেই আর্থিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি। স্বামীর সঙ্গে টাকাপয়সা নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই আর্থিক বিবাদ থেকেই পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে গড়াতে পারে।
পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, এটি রহস্যমৃত্যু নয়, খুনের ঘটনা বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।