লোকাল ট্রেন থেকে নামার সময় পেশায় প্রফেসর অলোক সিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যায় তাঁর (Malad railway station killing)। বচসা বাড়তেই অভিযুক্ত রাগের মাথায় পকেট থেকে ধারাল অস্ত্র বের করে অধ্যাপকের পেটে একাধিকবার আঘাত করেন।

মুম্বইয়ে প্রফেসর খুন!
শেষ আপডেট: 26 January 2026 14:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে মুম্বইয়ের রেল স্টেশনে প্রকাশ্যে কলেজের এক অধ্যাপককে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন এক যুবক (Mumbai professor murder)। শনিবার সকালের এই ঘটনায় স্টেশন চত্বরে তীব্র আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি করে। কিন্তু খুনের পর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে গা ঢাকা দিলেও রোজের রুটিনমতোই কাজ করছিলেন। আর তাতেই ১০০-র বেশি সিসিটিভি খতিয়ে দেখে পুলিশ ১২ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
ধৃতের নাম ওমকার শিণ্ডে। জানা যায়, গত শনিবার সকালে মালাডে লোকাল ট্রেন থেকে নামার সময় পেশায় প্রফেসর অলোক সিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যায় তাঁর (Malad railway station killing)। বচসা বাড়তেই অভিযুক্ত রাগের মাথায় প্ল্যাটফর্মে নামামাত্রই পকেট থেকে ধারাল অস্ত্র বের করে অধ্যাপকের উপর চড়াও হয়ে পেটে একাধিকবার আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন অলোক। এরপর ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
অলোককে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন (Mumbai professor murder)। ঘটনার পরই জিআরপি খুনের মামলা রুজু করে এবং পাঁচটি আলাদা দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে। রেলস্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, রাস্তার মোড়, অটোস্ট্যান্ড- সব জায়গা মিলিয়ে ১০০-র বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে (Mumbai GRP arrest)। তদন্তে জানা যায়, ওমকার প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে মালাড থেকে চার্নি রোডে যাতায়াত করে। এই রুট ধরে আন্ধেরি, বান্দ্রা, মুম্বই সেন্ট্রাল, সব এলাকার ফুটেজ খতিয়ে বড় সূত্র পায় পুলিশ।
মালাডের ত্রিবেণী নগর এলাকায় তাকে একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। এরপর স্থানীয় সূত্রদের সক্রিয় করা হয়। পুলিশ অনুমান করেছিল রবিবার অভিযুক্ত হয়তো বাইরে বেরোবে না, তবুও নজরদারি চলতে থাকে। রবিবার সকাল ৭:৪০ নাগাদ ওমকার শিণ্ডেকে মালাড স্টেশনের কাছে অটো থেকে নামতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ধরে ফেলে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ যখন ঘটনাস্থল থেকে পালানোর ফুটেজ দেখায়, তখন ওমকার নিজেকে চিহ্নিত করে খুনের কথা স্বীকার করে (Alok Kumar Singh murder)। সে জানায়, রাগের মাথায় পকেটে থাকা একটি ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছিল, কিন্তু তা প্রাণঘাতী হবে তা সে ভাবেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওমকার মালাডেই বাবা-মা ও দাদার সঙ্গে থাকে। তাঁর একটি ইমিটেশন গয়নার ছোট দোকান আছে গ্রান্ট রোডে। আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।