
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2025 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাইভেট টিউশন থেকে ফিরতে দেরি হয়েছিল। ফলস্বরূপ বকাবকি করেছিল মা। তারপরই রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছিল ১৪ বছরের (Minor Girl) নাফিসা সুলতানা। তখনও পরিবারের কেউ ভাবতে পারেনি যে, তার পরিণতি এমন হবে। প্রায় ১ মাস নিখোঁজ থাকার পর সুলতানার মৃতদেহ উদ্ধার (Dead Body) হয়েছে ইছামতি নদী (Ichamati River) থেকে। এই খবরে শোকে পাথর তার বাবা-মা।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থানার সংগ্রামপুর শিবহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ছিল নবম শ্রেণির ছাত্রী নাফিসা সুলতানা। হরিমহন দালাল গার্লস হাই স্কুলে পড়াশোনা করত। সে নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছিল পরিবার। প্রথমে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, তারপর বন্ধুদের বাড়িও খোঁজ নেওয়া হয়। কিন্তু লাভ হয়নি। পরে বসিরহাট থানায় অভিযোগ জানায় পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ গত এক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় নাফিসার ছবি পোস্ট করে খোঁজ চালাচ্ছিল। মঙ্গলবার অবশেষে নাবালিকার খোঁজ মেলে।
মঙ্গলবার বিকেলে ইছামতি নদীর ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় মৃতদেহ ভাসতে দেখেন এক নৌকার যাত্রীরা। তারাই পুলিশে খবর দিলে মৃতার পরিচয় সম্পর্কে জানা যায়। নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবারেরকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের মেয়েকে শনাক্ত করেন তাঁরা। এরপর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, আত্মহত্যা করেছে নাফিসা। মায়ের বকুনি খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর হয়তো সে ইছামতি নদীর কাছেই গেছিল। তারপর মন খারাপের কারণে নদীতে ঝাঁপ মারে। তবে সে নিজেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে না তাকে কেউ প্ররোচনা দিয়েছে সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কারও সন্দেহ এটি আত্মহত্যার ঘটনা নাও হতে পারে। নাবালিকাকে কেউ ধর্ষণ করে খুন করেছে কিনা, সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।