পুরুলিয়ায় ১৭ বছরের কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ। দ্রুত তদন্তে নেমে পুলিশ ছ’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, চলছে জোরদার তদন্ত।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 January 2026 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ পুরুলিয়ায় (Purulia)। নিখোঁজ হওয়ার পর রাতেই উদ্ধার হয় বছর ১৭-র ওই কিশোরী। তাঁর বয়ানের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নেমে পুলিশ সাত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনায় পকসোতে মামলা রুজু হয়েছে।
পুরুলিয়া শহরেরই বাসিন্দা ওই কিশোরী। শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার কথা বলে নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু রাত গড়িয়ে গেলেও মেয়েটি আর বাড়ি ফেরেনি। বারবার ফোন করেও যোগাযোগ করা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারে। শেষ পর্যন্ত কিশোরীর বাবা পুরুলিয়া সদর থানায় (Purulia Sadar Police Station) অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয় পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু হয়। রাতেই কিশোরীকে উদ্ধার করেন আধিকারিকরা। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে সামনে আসে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছে, রাতে একা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সাত-আটজন যুবক তার পথ আটকায়। জোর করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, রেললাইনের ধারে একটি চাষের জমিতে নিয়ে গিয়ে ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের পর কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিল সে। সেই সময়েই পুলিশের তল্লাশি দলের হাতে তার খোঁজ মেলে।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কিশোরীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান পুলিশই। শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় অভিযুক্তদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি। নির্যাতিতার বয়ানের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে সাত অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। তাদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়ে, নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। বাকি ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রবিবার ধৃতদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে (Purulia District Court) তোলে পুলিশ। আদালত সাত অভিযুক্তকেই সাতদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন আদালতে কিশোরীর গোপন জবানবন্দি (Confidential Statement) রেকর্ড করা হয়েছে।
এটি পরিকল্পিত অপরাধ কি না, এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, গতিবিধি এবং ঘটনার সময়কার অবস্থান খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। পাশাপাশি নির্যাতিতার নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।