
বেচারাম মান্না, কৃষি বিপণন মন্ত্রী
শেষ আপডেট: 2 December 2024 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের আলু ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট নিয়ে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের। সোমবার বিধানসভায় কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না আলু সংকটের জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেই কাঠগড়ায় তুললেন।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে মালদহের মেহেদিপুর, দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি এবং চ্যাংরাবান্ধাতেই থেকে আলু বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। এটা পরিকল্পিতভাবে বাংলাকে হেনস্থা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
রাজ্য সরকার যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ নেবে বলেই আশ্বাস মন্ত্রীর। রাজ্যে মূলত কী কী কারণে পর্যাপ্ত আলুর জোগান নেই, বা বর্তমানে ঠিক কত পরিমাণ আলু রাজ্যের হাতে রয়েছে এদিন সবকিছুরই হিসাব দেন কৃষি বিপণন মন্ত্রী। এদিন একদিকে যেমন সীমান্তে আলুপাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপের কথা শোনা যায় বেচারামের গলায়, তেমনই উঠে আসে অসাধু ব্যবসায়ীদের কালোবাজারি রুখতে রাজ্যের কড়া পদক্ষেপের প্রসঙ্গও।
রাজ্যের হাতে বর্তমানে ঠিক কত পরিমাণ আলু মজুত আছে এদিন তার হিসাব দিয়ে মন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, চলতি বছরে রাজ্যে আলু উৎপাদনের পরিমাণ ৫৮ লক্ষ ৮৪ মেট্রিক টন। ২০২৩ সালে সেই পরিমাণ ছিল সাড়ে ৬৩ লক্ষ মেট্রিক টন। গতবারের থেকে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ মেট্রিক টন আলু কম উৎপাদন হয়েছে।
এমন পরিস্থিতির জন্য ঘূর্ণিঝড় দানা এবং লাগাতার বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতিকেই দায়ী করেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যের হাতে যে পরিমাণ আলু মজুত আছে তাতে কোনওরকম সমস্যায় পড়তে হবে না সাধারণ মানুষকে। বেচারাম মান্না জানান, নতুন বছরের ১০ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
মন্ত্রী আরও জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ লক্ষ ২৯৪ হাজার মেট্রিক টন আলু রাজ্যের হাতে এসেছে। বর্তমানে হাতে রয়েছে, ৬ লক্ষ ২ হাজার মেট্রিক টন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিন রাজ্যে ১৮ হাজার মেট্রিকটন আলু লাগে। এর মধ্যে ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু লাগে শুধু কলকাতাতেই।
রাজ্যবাসীকে শান্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের কথা মাথায় রেখেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মমতা বলেছেন, আগে বাংলার মানুষ আলু পাক তারপর অন্যদের কথা ভেবে দেখা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কোনওভাবেই আলু রফতানি করা হবে না বলেও এদিন জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে কৃষি বিপণন মন্ত্রী জানান, ‘সরকার প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৈঠকে বসতে চাইলেও তাঁরা শোনেন নি। তবে রাজ্য সরকারের তরফে সুফল বাংলার স্টল থেকে কলকাতায় ২৬ টাকা কেজি দরে এবং জেলায় ২৫ টাকা করে আলু বিক্রি করা হচ্ছে। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ৫৯৪ টি কাউন্টার থেকে আলু দেওয়া হচ্ছে।’
রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে কোনওভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীদের ছাড় মিলবে না। সোমবার মন্ত্রী বেচারাম মান্না জানান, বর্তমানে রাজ্যের কৃষকদের হাতে আলু একেবারেই নেই। ৪০ জন স্টোর মালিক সব আলু মজুত করে এমন কালোবাজারির চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের নামও রাজ্যের হাতে এসে পৌঁছেছে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।