
চন্ডিয়া নদীর পাড় থেকে মিলল মহিলার মাথা-নিজস্ব চিত্র
শেষ আপডেট: 26 January 2025 13:21
অভিজিৎ মান্না, পূর্ব মেদিনীপুর
কয়েকদিন আগে ময়নার রায়চকের চন্ডিয়া নদী থেকে বস্তা বন্দী মুণ্ডহীন মহিলার অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়। স্বামীকে জেরার করার পরে পুলিশ চন্ডিয়া নদীর পাড় থেকে মহিলার মুন্ডু উদ্ধার করে। মাথার খোঁজে হন্যে হয়ে তদন্ত চালাচ্ছিল পুলিশ। এমনকী ড্রোন উড়িয়েছিল। কিন্তু কিছুতেই মাথার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
এরপরেই পুলিশের সন্দেহ যায় মৃতার স্বামী পবিত্র বর্মনের উপর। স্ত্রীকে খুন করেছে পবিত্র এই সন্দেহে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। জেরা শুরু করে। পুলিশের দাবি, জেরার শেষ পবিত্র তাঁর দোষ স্বীকার করেছে। পুলিশকে সে জানিয়েছে, স্ত্রী শেফালী বর্মনের গলা কেটে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তার আগে স্ত্রী মাথা নদীর পাড়ে মাটিতে চাপা দিয়ে দেয় সে।
এই তথ্য পাওয়ার পরেই ময়না থানার পুলিশ চন্ডিয়া নদীর পাড়ে তল্লাশি চালায়। সেখানে মাটি খুঁড়ে শেফালীর মুন্ডু উদ্ধার করে। এরপরেই ময়না থানার পুলিশের দাবি, পবিত্র স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করার পরে দেহ লোপাটের চেষ্টা করেছিল। তাঁর স্ত্রীকের গলা কেটে নদীপাড়ে মাটি চাপা দিয়ে দেয়। আর দেহ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়। যাতে পুলিশ এই দেহকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসাবে গণ্য করে। আর পুলিশের কাছে স্ত্রী নিখোঁজ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল। তবে ময়না থানার দুঁদে পুলিশ অফিসারদের জন্য মাত্র সাত দিনের মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনা রহস্য উদ্ঘাটন হল। এর পেছনে আরও কেউ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে খুনের কারণে নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে গেছে। পবিত্রকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে চলেছে ময়না থানা।
রবিবার ময়নার রায়চকের চন্ডিয়া নদীতে একটি বস্তা উদ্ধার করে ময়না থানার পুলিশ। সেই বস্তা থানাতে নিয়ে এসে খুলতেই তাজ্জব হয়ে যায় পুলিশ। সেখানে এক মহিলার মুণ্ডহীন দেহ ছিল। পরনে লাল ব্লাউজ ও সবুজ সায়া ছিল। পচন ধরা দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল, ওই দেহটি জোয়ারের জলে ভেসে আসেনি। দুষ্কৃতীরা কোনও জায়গায় খুনের পরে বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দিয়ে গেছে। সবং থানার ওসি সহ ময়না থানার ওসি এবং জেলার এসডিপিও মুন্ডুর খোঁজে তদন্ত শুরু করে।