
শুভেন্দুর গড়ে বিজেপির হার
শেষ আপডেট: 29 November 2024 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর : শুভেন্দুর গড়ে গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া হল বিজেপির। শুক্রবার অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে কাঁথি ১ পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত হৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করল তৃণমূল। শুভেন্দুর গড়ে বিজেপির এই পরাজয় যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কাঁথি ১ পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত হৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ২৩ জন পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়েছিল ১১ জন। বিজেপির প্রতীকে ১২ জন জয়ী হয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, চুরি ও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রধান অশোক সামন্তকে বেশ কয়েক মাস গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে দেখা যায়নি। তাই বেহাল অবস্থা তৈরি হয় গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে। এদিন অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে সেই গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস।
শুক্রবার তৃণমূলের ১১ জন ও বিজেপির ১ জন সদস্যের সমর্থনে এবং পঞ্চায়েত সমিতির ৩ জন সদস্যের মধ্যে ১ জনের সমর্থনে গ্রাম পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির একজন সদস্য উপস্থিত হলেও বাকি সকলে অনুপস্থিত। ভোটাভুটির মাধ্যমে স্থায়ী সমিতি ভেঙে যায়। কাঁথি থানার আইসির উপস্থিতিতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় ভোটাভুটি। পঞ্চায়েত দখলের পরেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা।
আবির মেখে, ব্যাঞ্জো বাজিয়ে উৎসব করতে দেখা যায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের। হৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এতদিনের বিরোধী দলনেতা নিতাই দাস বলেন, "কেউ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেননি। স্থায়ী সমিতি ভাঙার জন্য যে কোনও সদস্য যে কোনও দিকে ভোট দিতে পারেন। এখানে বিজেপির প্রধানের কাজে তিতিবিরক্ত হয়ে একজন তৃণমূলের দিকে ভোট দিয়েছেন।"
বিজেপি ছাত্রনেতা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, "প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্থায়ী সমিতিতে বিজেপির কোনও এক সদস্য তৃণমূলকে সমর্থন করেছে, নিশ্চিতভাবে তাঁকে ভয় ভীতি বা মিথ্যে মামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দল তাঁর সঙ্গে কথা বলবে। পুলিশকে নিয়ে গোটা রাজ্যেই এসব চালাচ্ছে তৃণমূল।
অশোক কুমার সামন্ত হৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তিনি বলেন, "বিডিও কোনও নোটিস বা পরামর্শ করেনি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আগামীদিনেও এই বেআইনি স্থায়ী সমিতি নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হব।"