
শেষ আপডেট: 10 October 2023 20:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবেশীর অ্যাসিড হামলায় ঝাঁঝড়া হয়ে গিয়েছিল গোটা শরীর। প্রায় ৫০ দিন ধরে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। টানা যমে-মানুষে লড়াইয়ের পর অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। প্রায় দুই দশক পর সাজা ঘোষণা হল সেই ঘটনার। দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৪ সালে। ওই বছর ২২ জুলাই দাসপুরের বড় শিমুলিয়ার বাসিন্দা নন্দ সামন্ত তার প্রতিবেশী রতন সামন্তর গায়ে অ্যাসিড নিয়ে হামলা চালায়। সেই ঘটনায় প্রতিবেশীকে অ্যাসিড ছুঁড়ে হত্যার অভিযোগে নন্দ সামন্ত দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ১৯ বছর পর মঙ্গলবার দোষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে ঘাটাল মহকুমা আদালত।
পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, রতন সামন্তর গোটা শরীর পুড়ে গিয়েছিল। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দাসপুরের হাসপাতালে। অ্যাসিডে তাঁর শরীরের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে গিয়েছিল। শারীরিক অবস্থার ক্রমে অবনতি হতে থাকায় দ্রুত তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছিল। ঘাটাল মহকুমা হাসপাতাল থেকে তাঁকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কলকাতায়। দীর্ঘ ৫০ দিন ধরে চলে লড়াই। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ওই বছর ৯ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয়েছিল রতন সামন্তর।
এই ঘটনার পরই রতন সামন্তের স্ত্রী প্রতিবেশী নন্দ সামন্তের বিরুদ্ধে বিভা সামন্ত দাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নন্দ সামন্তকে গ্রেফতার করে দাসপুর থানার পুলিশ। শুরু হয় অ্যাসিড হামলায় রতন সামন্তর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নন্দ কুমারের বিরুদ্ধে মামলা। দীর্ঘদিন ঘাটাল মহকুমা আদালতে চলে সেই মামলার শুনানি। বাদী-বিবাদী পক্ষের আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে নন্দ সামন্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে ঘাটাল মহকুমা আদালত। সাজা ঘোষণা করেছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের।