
শেষ আপডেট: 29 July 2022 05:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিরিয়ড (Menstrual Cycle) হয়েছে বলে গাছ লাগানো (Tree Palntation) যাবে না! সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নাসিকের একটি স্কুলে এমনই নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন খোদ এক শিক্ষক। দাবি করলেন, ঋতুস্রাব চলছে এমন মেয়েরা চারা লাগালে আগুন লেগে যাবে গাছে। ওই স্কুলেরই এক ছাত্রী এই নিয়ে অভিযোগ তুললে বিষয়টি সামনে এসেছে।
জানা গিয়েছে, নাসিকের কাছে দেবগাঁও-এর একটি সরকারি আবাসিক স্কুলে এই অভিযোগ উঠেছে। দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের এক আদিবাসী ছাত্রী জানিয়েছে, সম্প্রতি আদিবাসী উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে স্কুলে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু এক শিক্ষক আচমকা ফতোয়া জারি করেন, পিরিয়ড চলছে এমন কোনও ছাত্রী নাকি ওই আয়োজনে শামিল হতে পারবে না। তাহলে নাকি তাদের হাতে লাগানো চারায় আগুন ধরে যাবে!
এমন ফতোয়ার জেরে ওই বৃক্ষরোপণ উৎসব থেকে বাদ পড়ে যায় একাধিক ছাত্রী। শুধু গাছ লাগাতে না দেওয়াই নয়, বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানের কাছাকাছি যেতেও বাধা দেওয়া হয় তাঁদের। এখানেই শেষ নয়, ঘটনায় কয়েকজন ছাত্রী আপত্তি জানানোর চেষ্টা করলে স্পষ্ট বলা হয়, কোনও রকম প্রতিবাদ করলে পরীক্ষার নম্বরে তার প্রভাব পড়বে।
২০২২ সালে দাঁড়িয়ে এমন এক ভিত্তিহীন শাস্তির মুখোমুখি পড়ে কার্যত অবাক হয়ে যায় ছাত্রীরা। এর পরে এক ছাত্রী নাসিক শ্রমজীবী সংগঠনের সচিব ভগবান মাধের কাছে অভিযোগ জানায়। তখনই সব জানাজানি হয়। নড়ে বসে স্কুল কর্তৃপক্ষও। বিষয়টি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন আদিবাসী উন্নয়ন পর্ষদের আধিকারিকরা।
ঋতুচক্রের মতো একটি স্বাভাবিক, শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও যে এত ছুঁতমার্গ রয়ে গিয়েছে, তা মাঝেমাঝে এই ধরনের ঘটনায় সামনে আসে। তবে একজন শিক্ষকের তরফে এমন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় বলেই মনে করছেন সকলে।
ফের ভেঙে পড়ল মিগ ২১, মৃত দুই পাইলট! বায়ুসেনার প্রশিক্ষণের সময় বড় বিপর্যয় বারমেরে