ভুয়ো ডিগ্রির জোরে বছরের পর বছর রোগী দেখার অভিযোগ। শেষমেশ চিকিৎসক শান্তনু সেনকে দোষী সাব্যস্ত করে দু'বছরের জন্য তাঁর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল।
.jpeg.webp)
শান্তনু সেন।
শেষ আপডেট: 3 July 2025 20:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো ডিগ্রির জোরে বছরের পর বছর রোগী দেখার অভিযোগ। শেষমেশ চিকিৎসক শান্তনু সেনকে দোষী সাব্যস্ত করে দু'বছরের জন্য তাঁর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল।
আর কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের পরই সাংবাদিক বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শান্তনু। তাঁর দাবি, ‘‘আমার ডিগ্রি ভুয়ো নয়। আমি MBBS এবং DMRD ডিগ্রি অর্জন করেছি। আমি রেডিওলজিস্ট হিসাবে কাজ করি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই DMRD করেছি, এমনকি প্রথম হয়ে গোল্ড মেডেল পেয়েছিলাম।’’
এখানেই না থেমে শান্তনু সাফ জানিয়ে দেন, "আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমি ছাড়ব না, যেখানে যাওয়ার যাব।"
নিজের দাবির স্বপক্ষে শান্তনু বলেন, ২০১৯ সালে তিনি লন্ডন থেকে FRCP ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে সেই ডিগ্রির রেজিস্ট্রেশন না করায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “যে আইন বলা হচ্ছে, তাতে কি কোথাও সময়সীমা বলা আছে রেজিস্ট্রেশনের জন্য?”
তাঁর কথায়, “আমি নিজে কয়েক বছর আগেও এই মেডিক্যাল কাউন্সিলেই সরকারি নমিনির দায়িত্বে ছিলাম। আমি FRCP রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছিলাম, এমনকি ১০ হাজার টাকা জমাও দিয়েছিলাম। একাধিকবার RTI করেছি, চিঠিও দিয়েছি, কিন্তু কোনও উত্তর পাইনি। তাহলে ধরে নেওয়া যেতেই পারে, রেজিস্ট্রেশন হয়ে গিয়েছে।”
কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভও উগরে দেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এই চিকিৎসক। কাউন্সিলের বর্তমান সভাপতির নাম না করেই বলেন, “২০০১ সালে সিপিএমের হাতে মার খেয়েছিলাম যাঁর পোলিং এজেন্ট হয়ে, তিনি আজ এই পদে বসে আছেন। এখন দেখছি কাউন্সিল রাজনৈতিক চাপে চিকিৎসকদের নিশানা করছে। কিছু চিকিৎসক তাই বাধ্য হয়ে প্র্যাকটিস ছেড়ে দিচ্ছেন। আমি তার জলন্ত উদাহরণ।”
অন্যদিকে, রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়ের দাবি, শান্তনু সেন ভুয়ো বিদেশি ডিগ্রি ব্যবহার করেই চিকিৎসা চালিয়ে গিয়েছেন, এবং সেটাই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও এক ইঞ্চি সরতে নারাজ শান্তনু। তাঁর সাফ কথা, “যদি আমি দোষী হতাম, মুখ ঢেকে চুপচাপ চলে যেতাম। আমি আমার প্রমাণ দিয়েছি। তাই চুপচাপ অন্যায় সহ্য করার প্রশ্নই নেই।”
এই ঘটনায় রাজ্যের চিকিৎসা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ শান্তনুর পাশে দাঁড়ালেও, অনেকেই বলছেন, চিকিৎসা পেশার স্বচ্ছতা রক্ষা করতে এমন পদক্ষেপ জরুরি।