স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার পরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, এত বছরের বাসিন্দা, সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও যদি কাউকে এভাবে ‘বাংলাদেশি’ বলা হয়, তবে কাদের আর নিরাপদ বলা যায়?

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 26 July 2025 09:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনহাটার উত্তম কুমার বজ্রবাসীর পর এবার মাথাভাঙার (Mathabhanga) বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সি নিশিকান্ত দাসের (Nishikanta Das) হাতে পৌঁছল এনআরসি-র নোটিস (NRC Notice)। আর তাতেই প্রবল উদ্বেগে দিন কাটছে এই প্রবীণ নাগরিকের।
নিশিকান্তবাবু জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে জীবিকার খোঁজে গিয়েছিলেন অসমের গুয়াহাটিতে। সেখানে তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র ও নথি দেখানোর পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি জানান, “ছ’মাস গুয়াহাটিতে কাজ করার পরে ফিরে আসি মাথাভাঙায়।”
তাঁর দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি নোটিস পাঠানো হয়, যেখানে লেখা রয়েছে, তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর ভারতে বেআইনি ভাবে প্রবেশ করেছেন। তখনই নিজের সমস্ত নথি— জন্ম সনদ, ১৯৬০ সালের জমির দলিল, পুরনো পরিচয়পত্র দেখিয়ে জমা দেন তিনি। তবুও এখন বলা হচ্ছে, বাবার নাম সহ পুরনো ভোটার তালিকা পেশ করতে হবে।
স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার পরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, এত বছরের বাসিন্দা, সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও যদি কাউকে এভাবে ‘বাংলাদেশি’ বলা হয়, তবে কাদের আর নিরাপদ বলা যায়?
এর আগেও দিনহাটার চৌধুরীহাটের বাসিন্দা উত্তম কুমার বজ্রবাসী ও ফালাকাটার অঞ্জলী শীল এমন নোটিস পেয়েছিলেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন, “বাংলার মানুষকে কেউ তাড়াতে পারবে না।”
রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, এনআরসি বা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এভাবে বাংলার নিরীহ বাসিন্দাদের হেনস্থা বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর নজর রাখছে বলেও প্রশাসন সূত্রে খবর।