দ্য ওয়াল ব্যুরো: ল্যান্স নায়ের নাজির আহমেদ ওয়ানি। যিনি সশস্ত্র হিজবুল জঙ্গিদের একা হাতে নিকেশ করেছিলেন গত নভেম্বরে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাহিনীকে। অথচ, কয়েক বছর আগেও তিনি ছিলেন উপত্যকার ত্রাস। ছিলেন জঙ্গি নাজির।পরে জঙ্গি কার্যকলাপ ছেড়ে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। গত বছর নভেম্বরে জঙ্গি দমনের সময়ই গুলি লাগে সেনা নাজিরের বুকে। শহিদ হন তিনি। সেই নায়েব নাজিরকেই এই প্রজাতন্ত্র দিবসে মরোণত্তর 'অশোক চক্র' সম্মানে সম্মানিত করা হবে। যা বৃহস্পতিবার ঘোষণা করল রাষ্ট্রপতি ভবন।
https://twitter.com/TheLeaflet_in/status/1088122150551281672
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, 'আদর্শ সেনার দায়িত্ব পালন করেছেন নাজির। একবার নয় বহুবার। উপত্যকায় জঙ্গি দমনে নাজিরের ভূমিকা অসামান্য। চ্যালেঞ্জের মুখে তিনি আরও সাহসী। অনেকবার দেশকে রক্ষা করতে বিপদের মুখে পড়েছেন তিনি, লড়েওছেন। তাই তাঁকেই মরোণত্তর অশোক চক্র সম্মানে সম্মানিত করা হচ্ছে।'
১৬২ ব্যাটেলিয়ান টেরিটোরিয়াল আর্মির নেতৃত্বে ছিলেন নাজির। দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা গোটা বাহিনীকে উজ্জীবিত করত বলে জানাচ্ছেন নাজিরের সহকর্মীরা, যাঁরা তাঁর নেতৃত্বেই সোপিয়ানের জঙ্গি দমনে সাফল্য পেয়েছিলেন। তাই এই সম্মান তাঁরই প্রাপ্য বলে মনে করেন ১৬২ ব্যাটেলিয়ান টেরিটোরিয়াল আর্মির প্রত্যেকে।

সেনা সূত্র বলছে, খুব অল্প বয়সেই জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখান নাজির। নিরীহদের উপর গুলিও চালিয়েছেন নির্বিচারে। সেই বেপরোয়া যুবকই পরে বোঝেন সন্ত্রাস নয়, অস্ত্র নামালেই ফিরবে শান্তি। ভাবা মাত্রই জঙ্গি ডেরা থেকে পালিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। যোগ দেন ভারতীয় সেনায়।
২০০৪ সালে জঙ্গি ডেরা থেকে পালিয়ে আসেন নাজির। আত্মসমর্পণ করে পুলিশকে নাজির জানিয়েছিলেন, দেশের জন্য তিনি কিছু করতে চান, সেনায় যোগ দিয়ে গ্রামের তরুণদের জঙ্গি দলে নাম লেখানোর থেকে রুখতে চান।নাজিরের কথা বিশ্বাস করেন এক সেনা আধিকারিক। শুরু হয় নাজিরের সেনা প্রশিক্ষণ। ওই বছরই নাজির যোগ দেন ১৬২ ব্যাটেলিয়ান টেরিটোরিয়াল আর্মিতে। এরপর একের পর এক তল্লাশি অভিযানে গিয়ে জঙ্গি দমন করেছেন নাজির, পরে পদোন্নতি হয়ে জঙ্গি দমন বাহিনীর নেতৃত্বে থাকেন তিনি।

জঙ্গি দমনে নাজির ছিলেন তাঁর টিমের শেষ কথা। জঙ্গিদের গতিবিধি তড়িৎ গতিতে বুঝতেন তিনি। সেভাবেই সেনাদের ছড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন। ২০০৭ সালে সাহসের সঙ্গে জঙ্গি দমন ও পরিকল্পনার জন্য সেনা মেডেলও পান তিনি।তল্লাশি অভিযানে জঙ্গিদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, নাজির নাকি সহজেই বলে দিতে পারতেন।
২৫ নভেম্বরও জঙ্গিদের চিহ্নিত করতে দেরি করেননি নাজির। তাই বাহিনীকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। একাই ছয় জঙ্গির পাঁচ জনকে খতম করেন। তারপরই জঙ্গিদের পাল্টা গুলিতে শহিদ হন তিনি। কুলগামের ছোট্ট গ্রাম চেকি আসমুজির বাসিন্দা নাজির ওয়ানি। যেথানে তাঁর নাম গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করেন গ্রামবাসীরা।
শনিবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন স্বামীর হয়ে দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন সামরিক সম্মান ‘অশোক চক্র’ হাতে নেবেন নাজিরের স্ত্রী।
আরও পড়ুন-
https://www.four.suk.1wp.in/news-india-survey-shows-nda-will-not-get-majority-if-election-will-happen-now/