এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আদালত ফের একবার স্পষ্ট করে দেয়, সংবিধান সকল নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে। লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নয়, আইনের চোখে সকলেই সমান।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 18 July 2025 18:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা-মায়ের জমি হারালে কেবল ছেলে বা অবিবাহিতা মেয়েই নয়, সরকারি চাকরির এক্সজেমটেড কোটায় অধিকার রয়েছে বিবাহিত কন্যারও (Married daughter's right to Government Job quota)। অবশেষে সেই অবস্থানেই ফিরল রাজ্য সরকার। হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলাকারী এক মহিলার জোরদার আইনি লড়াইয়ে এক ঐতিহাসিক বার্তা (Women's Empowerment) উঠে এল, মেয়েরাও বাবা-মায়ের সমান উত্তরাধিকারী, বিবাহিত হলে তাও নয় বাদ।
ঘটনার সূত্রপাত বীরভূমের বক্কেশ্বর থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পকে ঘিরে। জমি অধিগ্রহণের পরে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল, জমিহারাদের পরিবারের ‘এক্সজেমটেড ক্যাটাগরি’-র বেকার সদস্যদের অগ্রাধিকারে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। সেই সুযোগের দাবিতে আবেদন করেন এক বিবাহিত কন্যা। কিন্তু শ্রম দফতরের তরফে সাফ জানানো হয়, বিবাহিতা কন্যারা এই সুযোগ পাবেন না। কারণ, সরকারি নীতিতে বলা আছে, কেবল ছেলে বা অবিবাহিত মেয়েরাই এই সুযোগের যোগ্য।
এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই কন্যা। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে বিষয়টি শুনানি চলাকালীন তিনি প্রশ্ন তোলেন , ‘‘রাজ্য কি নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে?’’ বিচারপতি বলেন, ‘‘একজন সন্তান, তিনি ছেলে হোন বা মেয়ে, বিবাহিত হোন বা না হোন, তিনি কেন বাবার সম্পত্তি বা অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন?’’
আবেদনকারীর আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী আদালতে জানান, শ্রম দফতরের এই সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক এবং সম্পূর্ণ লিঙ্গবৈষম্যমূলক। আদালতও সহমত জানিয়ে রাজ্য সরকারের শ্রম দফতরের ওই মেমো-কে ‘লিঙ্গবৈষম্যমূলক’ বলে খারিজ করে দেয়। শুধু সিঙ্গল বেঞ্চ নয়, পরে ডিভিশন বেঞ্চেও হারে রাজ্য।
শেষ পর্যন্ত আদালত অবমাননার মামলায় সশরীরে হাজির হয়ে দফতরের এক আধিকারিক জানান, আবেদনকারীর নাম এক্সজেমটেড কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁকে সরকারি সুযোগসুবিধাও দেওয়া হয়েছে।
এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আদালত ফের একবার স্পষ্ট করে দেয়, সংবিধান সকল নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে। লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নয়, আইনের চোখে সকলেই সমান। এই রায় এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল, যেখানে বিবাহিতা কন্যার অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দিল হাইকোর্ট।