
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 April 2025 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি-র ২০১৬ সালের প্যানেল থেকে (SSC 2016 Deprived Teachers) যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করা যাচ্ছে না। সেই কারণেই প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর আস্ত প্যানেল বাতিল করা হল বলে গত ৩ এপ্রিল জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার চাকরিহারাদের সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বেশ জোরের সঙ্গেই জানিয়েছেন, “২২ লক্ষের মিরর ইমেজই রয়েছে। আমাদের তা প্রকাশ করতে কোনও আপত্তি নেই”। আগামী দেড় থেকে দু'সপ্তাহের মধ্যে যোগ্য তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও চাকরিহারাদের আশ্বস্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তবে শুধু কথায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না চাকরিহারারা। তাঁদের সাফ কথা, চাকরি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। শুক্রবারের পর শনিবার ও কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় অবস্থানে নেমেছেন চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। এসএসসি ভবনে ধর্নায় বসেছেন তিন চাকরিপ্রার্থী। আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীদের তরফে এও দাবি করা হয়েছে, নিজেদের জীবিকা বাঁচাতে তাঁরা অরাজনৈতিকভাবে এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন।
যদিও শনিবার সকালে এ ব্যাপারে বড় অভিযোগ এনেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের তৃণমূল বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্টো। তাঁর অভিযোগ, "মুখ্যমন্ত্রী যেখানে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন, সেখানে বিরোধীরা একজোট হয়ে অশান্তি পাকিয়ে চাকরি হারাদের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে চাইছে।"
তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, "চাকরিহারাদের আন্দোলনের মধ্যে মিশে রয়েছে মাওবাদীরা। আর পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে বিজেপি ও সিপিএম।"
পাল্টা প্রতিক্রিয়া ধেয়ে এসেছে বিজেপি ও সিপিএম শিবির থেকে। বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল বলেন, "চাকরি চুরি করে হাজার হাজার শিক্ষিত ছেলেমেয়ে ও তাদের পরিবারকে পথে বসিয়ে এমন দাবি একমাত্র তৃণমূলই করতে পারে! ২৬ এর ভোটে মানুষ এর জবাব দেবে।"
আরও একধাপ এগিয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কসবা ডিআই অফিসে চাকরিহারাদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তাঁর কথায়, "সেদিন তো চাকরিহারাদের বদনাম করতে ওদের মিছিলে মিশেছিল তৃণমূলের লোকজন। একটি ভাইরাল ভিডিওয় তো একজন তৃণমূল কর্মীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, পেট্রল নিয়ে আয় জ্বালিয়ে দেব!"
রাজনীতির কচকচানির মধ্যে অবশ্য ঢুকতে চান না চাকরিহারারা। তাঁদের অন্যতম মুখ মহম্মদ মেহবুব বলেন, "শাসক চাকরি চুরি করেছে বলেই আজ আমরা পথে। আবার বিরোধীরাও চায়, ২৬ পর্যন্ত এই ইস্যুকে বাঁচিয়ে রাখতে। যে যার রাজনীতিতে ব্যস্ত, আমাদের স্রেফ দাবার বোর্ডের বোরে হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আবারও বলছি, নিজেদের জীবিকা বাঁচাতে আমরা অরাজনৈতিকভাবেই আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাব।"