দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত জুলাই মাস থেকে বর্ধমান জেলা সংশোধনাগারে রয়েছেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাওবাদী অর্ণব দাম। বর্তমানে তিনি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে পিএইচডি করছেন। বুধবার থেকে ফের অনশন করছেন অর্ণব। ওআরএস ছাড়া নাকি কিছুই মুখে তুলছেন না তিনি।
অনশনের কারণ, ৭৬ বছর বয়সী মা একা থাকেন। অসুস্থ হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য এক দিনের প্যারোল চেয়েছিলেন অর্ণব। কিন্তু সেই অনুমতি না দেওয়ায় অনশন শুরু করেন তিনি। যার জেরে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছেন তিনি।
জেল কর্তৃপক্ষ বারবার আবেদন জানানো হলেও নিজের অবস্থান থেকে টলছেন না তিনি। জেলের মধ্যে অর্ণবের পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অনশনে ওজন কমেছে তিন কেজি। বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়াও বন্ধ, ফলে পিএইচডি-র ক্লাস করাও হচ্ছে না।
বর্তমানে অর্ণবের মা কল্যাণী দাম বাড়িতে একাই থাকেন। শারীরিক অবস্থাও ভাল নয়। তারই মধ্যে মধ্যরাতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। তাই বাড়িতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চান অর্ণব।
সোনারপুর পুলিশ মনে করছে, অর্ণব প্যারোল পেলে এলাকায় অশান্তি হতে পারে। তাই কারা দফতর জানিয়েছে ওঁর আবেদন মঞ্জুর করা যাবে না। ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে সরব হয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। কলকাতায় আইজি কারার অফিসে অর্ণবের জামিন চেয়ে দাবিপত্র পেশ করা হয়েছে এপিডিআর-এর তরফে।
খড়গপুর আইআইটির মেধাবী ছাত্র অর্ণব পড়াশোনা ছেড়ে সিপিআই (মাওবাদী)-এর রাজনৈতিক মতবাদে আকৃষ্ট হয়ে সেই সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন। শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয় তাঁকে। তারপর থেকেই বর্ধমান জেলে রয়েছেন তিনি। এই অবস্থাতেই ইতিহাস নিয়ে পিএইচডি করতে চাইলে আদালত তাঁকে অনুমতি দেয়।
গত ২৬ জুন পুলিশের পাহারায় ইন্টারভিউয়ের জন্য বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে যান অর্ণব। ৫ জুলাই মেধাতালিকা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিহাস বিভাগে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭৬.৮৬৭০ নম্বর পান। এই বিভাগে গবেষণা করার জন্য ইন্টারভিউয়ে ২৪৯ জনকে পিছনে ফেলে প্রথম হন অর্ণব। তারপরেই শুরু হয় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ইতিহাস গবেষণা।