দ্য ওয়াল ব্যুরো : মণিপুরে জঙ্গি হামলার (Militant attack) পরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন একাধিক শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতা। শনিবার সকালে মণিপুরে সন্ত্রাসবাদীদের অতর্কিত আক্রমণে অসম রাইফেলসের কর্নেল বিপ্লব ত্রিপাঠি, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যু হয়। এছাড়া অসম রাইফেলসের আরও চার জওয়ানও শহিদ হন। এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা পরেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, ওই হামলা আরও একবার প্রমাণ করল, মোদী সরকার জাতিকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।
রাহুল টুইটারে লেখেন, "মণিপুরে সেনা কনভয়ে জঙ্গি হামলা আরও একবার প্রমাণ করল মোদী সরকার জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ। যাঁরা শহিদ হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে আমি সমবেদনা জানাই। শহিদদের আত্মত্যাগ মনে রাখবে দেশ।"
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট টুইট করে বলেন, "মণিপুরের চূড়াচাঁদপুরে অসম রাইফেলসের কনভয়ে জঙ্গি হানার তীব্র নিন্দা করছি। ওই হানায় পাঁচ সাহসী সেনা ও তাঁদের পরিবারের দুই সদস্য মারা গিয়েছেন। শহিদদের কুর্নিশ জানাই।" কংগ্রেসের অপর শীর্ষ নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, "খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আশা করি, যারা ওই ঘটনার জন্য দায়ী শীঘ্র তারা ধরা পড়বে।"
রবিবার জানা যায়, মণিপুরে জঙ্গি হামলায় মৃত কর্ণেল বিপ্লব ত্রিপাঠি ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন খুবই নম্র ও ভদ্র। তাঁর ব্যবহারে খুশি ছিলেন তাঁর অধীনস্থরা। মানুষের বিপদে আপদেও ছুটে যেতেন তিনি।
এদিন স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে তাঁর জীবনের নানান অজানা গল্প। স্বাধীনতা সংগ্রামী দাদুর অনুপ্রেরণাতেই সেনা জীবনে আসা বিপ্লবের। ছোট থেকেই সেনাদের প্রতি ছিল তাঁর অসম্ভব শ্রদ্ধা। যা তাঁকে ধীরে ধীরে টেনে আনে এই জীবনে। বিপ্লব ত্রিপাঠির কাকার স্মৃতিচারণায় উঠে আসে এমন তথ্য।
জন্মসূত্রে বিপ্লব ত্রিপাঠি ছত্তিশগড়ের রায়গড়ের মানুষ। পিতা সুভাষ ত্রিপাঠি এক বর্ষীয়ান সাংবাদিক। হিন্দি দৈনিকে কাজ করেন তিনি। মা আশা ত্রিপাঠি একজন অবসরপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান। দিওয়ালির ছুটি কাটাতে বিপ্লবের পরিবার পৌঁছে গিয়েছিলেন মণিপুরে। শেখানেই সবার সঙ্গে মেতে ছিলেন তিনি।
জাতীয় নিরাপত্তা অ্যাকাডেমি থেকে স্নাতক পাশ করে দেরাদুনের ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন বিপ্লব ত্রিপাঠি। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে গেছেন তিনি। তবে যেখানেই গেছেন নিজের ব্যবহার ও স্বভাবের কারণে মন জয় করে নিয়েছেন সবার।