
মানিক ভট্টাচার্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 November 2024 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। তাঁর ফ্ল্যাট এবং বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল। সেই টাকায় কি ভাগ রয়েছে মানিক ভট্টাচার্যের, হঠাৎ এমন প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যদিও ইতিমধ্যে এই নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ তৃণমূল বিধায়ক। ইডি মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ তাঁর।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন মামলার শুনানি ছিল। সেই শুনানিতে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে উদ্ধার হওয়া টাকার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মানিক ভট্টাচার্য। তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ''ইডির তরফ থেকে অভিযোগ আনার চেষ্টা হচ্ছিল যে অর্পিতার কাছ থেকে যে অর্থ উদ্ধার হয়েছে তার সঙ্গে পার্থ ছাড়াও মানিক ভট্টাচার্যর যোগ রয়েছে।'' তৃণমূল বিধায়কের সাফ কথা, ইডির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে যে তথ্য দেয়া হয়েছে তা সঠিক নয়।
মানিক জানান, ইডির দাবি শুনে সঙ্গে সঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী মুকুল রোহতগী প্রতিবাদ করে বলেন, ''পার্থর মতো মানিক ভট্টাচার্যও তাঁর মক্কেল। এই তিনজনের মধ্যে এই ব্যাপারে কোনও যোগসূত্র ছিল না। আড়াই বছরে এই প্রসঙ্গও কখনও আসেনি।'' ইডিকে ভুল তথ্য না দিতে অনুরোধও করেন তিনি, বলে দাবি মানিকের। যদিও তাঁর ক্ষোভ হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর।
যে বক্তব্য নিয়ে এত বিতর্ক সেই বক্তব্য নাকি ইডি নয়, করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী! মানিক ভট্টাচার্য বলেন, এই মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। মুকুল রোহতগী এসব কিছু বলেননি। সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ এই কথা বলছে। এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই নিয়োগ মামলায় জামিন পেয়েছেন মানিক। সদ্য জামিন হয়েছে অর্পিতারও। কিন্তু জামিন-জট এখনও খুলছে না পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। কলকাতা হাইকোর্টে তো তাঁর মামলা ঝুলেই আছে, সুপ্রিম কোর্টও এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি।
বুধবার অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শীর্ষ আদালত ইডিকে কার্যত ধমক দিয়ে প্রশ্ন করেছে, ''আপনাদের সাজা ঘোষণার হাত কত? ৬০-৭০ শতাংশ হলেও বুঝতাম।'' এরপরই তাঁকে দীর্ঘ সময়ে জেলে রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সর্বোচ্চ আদালত। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জামিন দিলে কী সমস্যা হবে, তাও জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট।
পার্থর আইনজীবী মুকুল রোহতগী বলেন, এই মামলায় সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে সাত বছর। অথচ পার্থ চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যে আড়াই বছর জেল খেটে ফেলেছেন। তাও বিচারপ্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। এদিকে যার বাড়িতে টাকা পাওয়া গেল, সেই অর্পিতা জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে মানিক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে তাঁর ছেলে, যারা অন্যতম অভিযুক্ত তাঁরাও জামিনে মুক্ত। শুধু পার্থকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। ইডির পক্ষের আইনজীবী এই বিষয়ে বক্তব্য, বৃহত্তর স্বার্থে জামিন পাওয়া উচিত নয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।