এক ছাদের নিচে সংরক্ষিত হবে এই রহস্যঘেরা অঞ্চলের গোপন গল্প, ইতিহাস, লোককথা আর প্রাণবৈচিত্র্যের দলিল।

সুন্দরবনের 'দক্ষিণ রায়'
শেষ আপডেট: 31 May 2025 18:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের (Mangrove forest) অধিকারী সুন্দরবন (Subdarban)। সেখানে এবার গড়ে উঠছে জাদুঘর (Museum)। এক ছাদের নিচে সংরক্ষিত হবে এই রহস্যঘেরা অঞ্চলের গোপন গল্প, ইতিহাস, লোককথা আর প্রাণবৈচিত্র্যের দলিল।
আগামী তিন মাসের মধ্যেই উদ্বোধন হতে চলেছে ‘সুন্দরবন মিউজিয়াম’। এই মিউজিয়াম হবে অভিনব সাংস্কৃতিক ও পরিবেশ-বিষয়ক আর্কাইভ, যা তুলে ধরবে ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকার অপরূপ সব অনুচ্চারিত অধ্যায়।
জাদুঘরটির পরিকল্পনা ও নির্মাণ করছে iLEAD School of Design- যারা এর আগে পেট্রাপোলে ‘১৯৭১ যুদ্ধ জাদুঘর’-ও তৈরি করেছিল। সেই কাজ যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই নতুন উদ্যোগ সুন্দরবনের ইতিহাস, সমাজ ও পরিবেশকে ঘিরে তৈরি করবে অভিনব অভিজ্ঞতা।

গোসাবায় তৈরি হচ্ছে ওই জাদুঘর
জাদুঘরে থাকছে ১২টি আলাদা গ্যালারি, প্রতিটি সুন্দরবনের নানা বিশেষ দিককে তুলে ধরবে। থাকছে:
• প্রাণী ও উদ্ভিদের নিদর্শন
• সুন্দরবনের সামুদ্রিক ইতিহাস ও জলদস্যুদের কাহিনি
• লোককাহিনি
• স্থানীয় উপজাতিদের সংস্কৃতি ও হস্তশিল্প
• বনজ সম্পদ (কাঠ, অ-কাঠজাত পণ্য, গোলপাটা)
• ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণাধর্মী গ্যালারি
• সংরক্ষণ কার্যক্রমে দর্শকদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার ইন্টার্যাক্টিভ অংশ
প্রযুক্তিনির্ভর এই উপস্থাপনায় ইতিহাস ও প্রকৃতির নানা গল্প উঠে আসবে। iLEAD–এর চেয়ারম্যান প্রদীপ চোপড়া বলেন, ‘সুন্দরবনে প্রস্তাবিত এই জাদুঘর নিঃসন্দেহে এই অঞ্চলকে পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত করবে। ইতিহাস, পরিবেশবিদ্যা, ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে এটি দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।’
জাদুঘরের আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ হবে ভবিষ্যতের সুন্দরবন সংক্রান্ত প্রদর্শনী, যেখানে দেখানো হবে কীভাবে জীবিকা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এই অঞ্চলকে টিকিয়ে রাখা যায়।
এই জাদুঘর শুধু দর্শনীয় স্থান হিসেবে নয়, শিক্ষামূলক ও পরিবেশ-বান্ধব পর্যটনের নতুন দিক খুলে দিতে পারে, সেই নিয়ে আশাবাদী আয়োজকরা।