শেষ আপডেট: 17 December 2023 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী কর্মসূত্রে অন্য জায়গায় থাকেন বলে ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই বেশিরভাগ সময় থাকতেন স্ত্রী। শনিবার রাতে কর্মস্থল থেকে গ্রামে ফেরেন স্বামী। তারপর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ফিরে যান নিজের বাড়িতে। পদ্মা গোপ নামে ওই বধূর বাপের বাড়ির লোকজন তখনও জানতেন না, মেয়েকে সেই দেখাই শেষ দেখা। শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পরের দিনই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ। এই ঘটনায় পদ্মার স্বামী সনৎ গোপের বিরুদ্ধে মেয়েকে খুন করার অভিযোগ তুলেছেন পদ্মার মা ও বাড়ির লোকজন।
পুরুলিয়ার মানবাজারে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। রবিবার সকালে পদ্মা গোপ নামে ওই বধূকে ঘরের ভেতর থেকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করার পর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তড়িঘড়ি। তবে ততক্ষণে সব শেষ। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই খেপে ওঠেন গ্রামবাসীরা। পদ্মার স্বামী সনৎকে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে মানবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কী এমন ঘটেছিল যাতে এক রাতের মধ্যে সবটা পাল্টে গেল? পদ্মার বাপের বাড়ির লোক জানিয়েছেন, মেয়ের সঙ্গে ৬ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল সনতের। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে কাজের সূত্রে বেশিরভাগ সময়ই বাইরে থাকত সনৎ। অভিযোগ, সেখানেই সে আরও একটি বিয়ে করে। বাড়ি ফিরে এসে পদ্মাকে সে কথা জানানোর পরই অশান্তি শুরু হয়। স্বামীর এমন ব্যবহার মেনে নিতে না পারাতেই বধূকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের লোকজনের।
স্থানীয়রা ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্বামীর শাস্তির দাবিতে মানবাজার থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। এই ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ানোর পর ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য বধূর মৃতদেহটি হাতোয়ারা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হবে।