
শেষ আপডেট: 24 February 2024 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: সন্দেশখালির ঘরে ঘরে মনসা পুজোয় মাতলেন গ্রামের মানুষ। জল-জঙ্গলে ঘেরা সুন্দরবনের এই এলাকায় নিত্যদিনই সাপের উপদ্রব। সাপের দংশন থেকে বাঁচতে লৌকিক দেবী মনসার আরাধনা করে বছরভরই তাঁকে সন্তুষ্ট রাখেন তাঁরা। এই বিপন্ন সময়েও তাঁরই শরণাপন্ন হলেন গ্রামের মানুষ। বাসিন্দারা বলছেন, "শেখ শাহজাহানরাও সাপের থেকে কোনও অংশে কম নয়। তাদের দংশনেই সব শেষ হয়ে গেছে আমাদের।এদের নির্মূল করুক দেবী।"
গত ২০ দিনে রাতারাতি বদলে গেছে গ্রামের ছবি। দফায় দফায় চলছে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ। কখনও চলছে ভাঙচুর, কখনও জ্বলছে আগুন। চলছে রাস্তা অবরোধ। গোবর লেপা উঠোনে ভারী বুটের শব্দ। আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়ছে প্রতিদিন। একইসঙ্গে তীব্র হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ইচ্ছেও। শনিবার সকাল থেকে ফের তেতে ওঠে বেড়মজুর। শাহজাহান ও তার ভাই সিরাজউদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। হালদার পাড়ায় তৃণমূল নেতা বিনয় সর্দারের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় গ্রামের মানুষ। মারধর করা হয় তাঁর পরিবারের সদস্যদের। আবার একই সঙ্গে শান্তি ফেরাতে বাড়িতে বাড়িতে শুরু হয়েছে মনসা পুজো। চলছে হোম যজ্ঞ, কীর্তন ও নাম গান।
শনিবার সকাল থেকেই সন্দেশখালির কাছারি পাড়া, বটতলা, দাসপাড়া কাঠপোল-সহ একাধিক জায়গায় ধর্মীয় আচার মেনে শুরু হয় পুজো। কোথাও কোথাও আবার পালা গান আর নাম সংকীর্তন শুরু হয়। উৎসবের রং খানিকটা ফিকে। তবুও আর্তিতে যেন ঘাটতি নেই। বাসিন্দারা বলছেন, "শাহজাহানরা সাপের থেকেও ভয়ঙ্কর। তাদের অত্যাচার আর হিংসা বন্ধ হয়ে মানুষের জীবনযাত্রা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুক, দেবীর কাছে সেই প্রার্থনাই করছি।" গত কয়েক দিন ধরে গ্রামগুলি সরগরম ডিজি, আইজি, ডিআইজি, শাসক দলের নেতা মন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের আনাগোনায়। শান্তি স্থাপনের জন্য পুলিশের তরফে মাইকে প্রচার চলছে। সব কিছুকে ছাপিয়ে শনিবার সন্দেশখালির ঘরে ঘরে বাজছে শঙ্খ ঘণ্টা। দেওয়া হচ্ছে উলু ধ্বনি। শোনা যাচ্ছে ঠাকুরের নাম সংকীর্তন ও পালা গানের সুর। মনসার আরাধনার মাধ্যমেই শান্তি ফেরার আর্তি জানাচ্ছেন সন্দেশখালির মানুষ।