দ্য ওয়াল ব্যুরো: এভারেস্ট বা হিমালয়ের অন্যান্য সুউচ্চ শৃঙ্গগুলি আরোহণের ভুয়ো দাবি নতুন নয়। নানা সময়ে নানা মানুষ অভিযুক্ত হয়েছেন এই অভিযোগে। শৃঙ্গ না ছুঁয়েও শৃঙ্গ স্পর্শ করার দাবি জানানোর বিপক্ষে নানা সময়ে সরব হয়েছেন পর্বতারোহীরা। পর্বতারোহণের মতো একটি বৃহত্তর স্পোর্টসে এমন জালিয়াতি মানায় না বলেই মত তাঁদের।
কিন্তু তা সত্ত্বেও এক শ্রেণির মানুষের লোকঠকানো দাবির শেষ নেই। এবার তেমনই ভুয়ো দাবির জেরে হরিয়ানার যুবকের প্রায় হাতে এসে গেছিল দেশের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের সর্বোচ্চ সম্মান, তেনজিং নোরগে অ্যাওয়ার্ডও। শেষ মুহূর্তে রুখে দাঁড়িয়েছেন পর্বতারোহীরা। উপযুক্ত প্রমাণ সহকারে তাঁরা জানিয়েছেন, ভুয়ো ছবি ও সার্টিফিকেট দেখিয়ে সর্বোচ্চ সম্মান জয় করতে চলেছে হরিয়ানার যুবক নরেন্দ্র সিং।
২০১৬ সালে এভারেস্ট অভিযানে সামিট করেছেন বলে দাবি করেছেন নরেন্দ্র। সামিটের ছবি এবং নেপাল সরকারের সার্টিফিকেটও দেখিয়েছেন। তার জেরেই এ বছর তেনজিং নোরগে পুরস্কার মিলতে চলছে তাঁর। কিন্তু যে দলের সঙ্গে তিনি এভারেস্ট অভিযানে গিয়েছিলেন সে দলেরই অভিযাত্রী, অসমের নবকুমার ফুকনের সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করেছেন, ২৪ বছরের নরেন্দ্র কোনও দিন এভারেস্ট শীর্ষে পৌঁছননি। তাঁর ছবিটি মর্ফড বা বিকৃত।
এই কথা শোনার পরেই অভিযোগ আসে সারা দেশের নানা প্রান্তের পর্বতারোহীদের তরফে। ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশন বা আইএমএফ-এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা কেন্দ্রীয় যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেণ রিজিজুকেও মেল করে সবটা জানিয়েছেন তাঁরা।
নরেন্দ্রর সামিটের ছবিটি দেখে পর্বতারোহীরা বলছেন, যে অক্সিজেন মাস্কটি নরেন্দ্রর মুখে রয়েছে, তাতে কোনও নল লাগানো নেই সিলিন্ডারের। অত উচ্চতায় প্রবল হাওয়ায় শৃঙ্গের সব পতাকা উড়লেও, নরেন্দ্রর হাতের পতাকাগুলি একেবারে স্থির। তার পোশাকও একেবারে ধোপদুরস্ত, যা সামিটের পরে থাকা সম্ভব নয়। নরেন্দ্রর চোখের চশমায় কোনও প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে না।
বাংলার পর্বতারোহী সত্যরূপ সিদ্ধান্ত বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে প্রতিবাদ করেছেন।
https://www.facebook.com/satyarup.siddhanta/posts/10223956981172631
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ শৃঙ্গ অর্থাৎ সপ্তশৃঙ্গ আরোহণ করেও তেনজিং নোরগে সম্মান মেলেনি সত্যরূপের। আরও বহু পর্বতারোহীর বহু কৃতিত্বও কখনও স্বীকৃত হয়নি। কিন্তু একটি জাল ছবি দেখিয়ে সেই পুরস্কারের দোরগোড়াতেই পৌঁছেছেন ২৪ বছরের যুবক। পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে এমনটা মেনে নিচ্ছেন না কেউই।