
শেষ আপডেট: 14 May 2019 10:32
কিন্তু এখন কাতানার দুটো চোখই নষ্ট হয়েছে, তবু তাকে কাছছাড়া করতে চায়নি রোরিগ। তাই চোখের অপারেশন হওয়ার পরেই কাতানাকে নিয়ে ১৮০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে রোরিগ। কাতানার একটি চোখ খারাপ হয়ে যায় পাঁচ বছর বয়সে। এখন তার আট বছর বয়স। এই তিন বছর যথেষ্ট যুদ্ধ করেছে কাতানা। এখন সে অনেকটাই স্বাভাবিক। আসলে রোরিগ মনে করেছে, আমাদের যখন অসুস্থতা আসে, অনেক দিন বাড়িতে কাটাতে হয়, তখন আমরা এমনিই খুব মুষড়ে পড়ি। তাই আমাদেরও যেমন চেঞ্জের প্রয়োজন হয়, তেমনি ওদেরও তো হয়। তাই কাতানাকে নিয়েই বেরিয়ে পড়েছে সে।
বহুবছর ধরেই কাতানা রোরিগের এই সঙ্গী, তারা দিনে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্তও রাস্তা পেরিয়েছে এক এক সময়ে। কিন্তু এবার কাতানার চোখ অপারেশনের পরে টানা দু মাস বাড়িতে থেকেছে তারা। রোরিগ বেশ সংশয়েই ছিল, আদৌ আর কাতানাকে রাস্তায় বের করা যাবে কি না, তা ভেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাতানাকে বেশ কিছুটা চিয়ার আপ করে রোরিগ। প্রথম দশ মিনিট লাগে তাকে চৌকাঠ পার করাতে, কিন্তু কাতানা বারবার তার প্রিয় রোরিগের আওয়াজ শুনে শুনে ভরসা পায়, আস্তে আস্তে এগিয়ে আসে সে। ফ্লরিডার রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে তারা।
রোরিগ বারবার চেয়েছে, কাতানা যাতে তার দৃষ্টিহীনতাকে মেনে নেয়। এবং জীবনে এগিয়ে চলে সহজে। আর সে কারণেই রোরিগ তাকে ঘরের বাইরে বের করতে উৎসাহী হয়েছিল। রোরিগ কাতানাকে নিয়ে জানুয়ারি মাসে ঘরের বাইরে পা রাখে, তারা আমেরিকার মিয়ামির কাছাকাছি বিগ সাইপ্রাস থেকে যাত্রা শুরু করে, আর এপ্রিলে প্যান্সাকোলার কাছাকাছি ফোর্ট পিকেন্সে শেষ করে এই পথ চলা। এই পুরো জার্নিতে কাতানাকে তার স্বভাবজাত ভঙ্গিমায় নিজের ছন্দে আগে আগে চলতে দেখা গিয়েছে।
কাতানা তার পথ চলা শুরু করার পর থেকে রোরিগ দেখেছে, যত দুর্গম রাস্তাই হোক না কেন, সে কখনও দমে যায়নি। বরং নিজেকে গাইড করতে সে তার অন্যান্য ইন্দ্রিয়কে ব্যবহার করেছে। রোরিগ তার ছোট্ট কাতানার জন্য খুবই চিন্তিত ছিল গোটা জার্নিতে। তাই ৯.৫ কেজির কাতানাকে খুব রুক্ষ জায়গাগুলোয় নিজের কাঁধে করে নিয়ে গেছে সে। ইতিমধ্যেই রোরিগ তাদের ছবি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে দিয়েছে, আর তা ভাইরালও হয়েছে।