
শেষ আপডেট: 20 July 2023 09:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটু প্রস্রাব করতে উঠে কী যে বিপত্তি হল! এখন কপাল চাপড়াচ্ছেন যুবক।
প্রকৃতির ডাক উপেক্ষা করা যায় না কোনওভাবেই। প্রস্রাবের বেগ যখন আসে এবং তা ত্যাগ করার জায়গা পাওয়া যায় না, তখন কী বিড়ম্বনায় যে পড়তে হয় তা এই আব্দুল কাদিরকে দেখলেই বোঝা যাবে। উপায় না দেখে বন্দে ভারতে (Vande Bharat train) উঠে প্রস্রাব করতে গিয়েছিলেন তিনি। স্টেশনে দাঁড়ানো পরিচ্ছন্ন ট্রেনের বাথরুমে দ্রুত প্রস্রাব করে আবার নেমে যাবেন, মনে মনে এটাই ভেবেছিলেন আব্দুল। কিন্তু ফল হল উল্টো। আর সে কারণে যে বিপদে পড়তে হল তাঁকে, তাতে পকেট থেকে ৬ হাজার টাকাও খোয়াতে হল।
গত ১৫ জুলাই ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ভোপাল স্টেশনে। সিঙ্গরৌলির বাসিন্দা আব্দুল কাদির। হয়াদরবাদের বেগম বাজার ও সিঙ্গরৌলিতেও তাঁর দুটি ফলের দোকান আছে। স্ত্রী এবং আট বছরের ছেলেকে নিয়ে দক্ষিণ এক্সপ্রেসে করে হায়দরাবাদ থেকে সিঙ্গরৌলির উদ্দেশে রওনা হন আব্দুল। ১৫ জুলাই বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ভোপাল স্টেশনে নামেন আব্দুল ও তাঁর পরিবার।
ভোপাল থেকে সিঙ্গরৌলি যাওয়ার ট্রেনের সময় ছিল রাত ৮টা ৫৫ মিনিট। কাজেই হাতে অনেকটা সময় ছিল। স্টেশনেই খাওয়াদাওয়া সেরে অপেক্ষা করছিলেন আব্দুল। সেই সময়েই প্রচণ্ড বেগ আসে। স্টেশনের অপরিষ্কার শৌচাগারে যাওয়ার চেয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ঝাঁ চকচকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে (Vande Bharat train) উঠে প্রস্রাব করবেন বলে ভাবেন আব্দুল। তিনি হয়ত ভেবেছিলেন, ট্রেনের শৌচালয়ে প্রস্রাব সেরে চট করে নেমে আসবেন। কিন্তু প্রস্রাব করতে গিয়ে যে ট্রেনে আটকে পড়তে হবে, সেটা ভাবতে পারেননি। ট্রেনের স্বয়ংক্রিয় দরজা বন্ধ হয়ে যায়। শৌচালয় থেকে বেরিয়ে আব্দুল দেখেন ট্রেন চলতে শুরু করেছে।
দিশাহারা আব্দুল টিটিকে ডেকে সমস্যার কথা বলেন। বন্দে ভারতে থাকা পুলিশকর্মীদেরও অনুরোধ করেন তাঁকে নামিয়ে দিতে। কিন্তু পুলিশ জানায়, দরজা খোলার অনুমতি রয়েছে একমাত্র চালকের। আব্দুল তখন দিশাহারা হয়ে চালকের কেবিনের দিকে ছোটেন। কিন্তু তার আগেই তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। ট্রেনের ভেতরে হুলস্থুল কাণ্ড বেঁধে যায়। যতক্ষণে চালককে ব্যাপারটা বুঝিয়ে ফয়সালা হয়, ততক্ষণে সুপারফাস্ট ট্রেন উজ্জয়িনী চলে এসেছে। শেষে উজ্জয়িনী স্টেশনে ট্রেন থামে। আব্দুলকে নামিয়ে দেন পুলিশকর্মীরা। বিনা টিকিটে ট্রেনে ওঠার অপরাধে ১০২০ টাকা জরিমানা দিতে হয় আব্দুলকে।
মণিপুরে মহিলাদের নগ্ন করে হাঁটানোর ঘটনায় গ্রেফতার এক, ভিডিও দেখেই অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ
এরপরেই আসল সমস্যার শুরু। আব্দুলের স্ত্রী ও ছেলে তখনও দাঁড়িয়ে ভোপালের স্টেশনে। এদিকে তাঁদের গন্তব্যের ট্রেন আসার সময় হয়ে গেছে। মরিয়া আব্দুল শেষে ভলভো বাসে চেপে ভোপালে ফেরেন। বাসের টিকিটের জন্য দিতে হয় ৭৫০ টাকা। বাসস্টপে নেমে সেখান থেকে আবার গাড়ি ধরে স্টেশনে পৌঁছতে আরও খানিক খরচ হয়। শেষে যখন ভোপাল স্টেশনে পৌঁছন ততক্ষণে তাঁদের ট্রেন চলে গেছে। সেই ট্রেনের ভাড়া ছিল ৪ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার টাকা খুইয়ে অন্য ট্রেনে চেপে বাড়ি ফেরেন আব্দুল ও তাঁর পরিবার।