
শেষ আপডেট: 13 February 2024 19:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে বিহার থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করল ক্যানিং থানার পুলিশ। ধৃতের নাম সুজন দাস। ধৃতের বাড়ি পূর্ণিয়া জেলার লালগঞ্জ মারেঙ্গা থানার ফুটানিচক গ্রামে। সেখানে অভিযান চালিয়েই ঘটনার এক বছর পর ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশসূত্রে জানা গিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ক্যানিংয়ের বঙ্কিম সর্দার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল ফুটানিচক গ্রামের বাসিন্দা সুজনের। সম্পর্ক গাঢ় হতেই বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে সুজন। বিয়ে না করলে পরিবারের সদস্যদের খুন করা হবে বলেও হুমকি দেয়। বেগতিক বুঝে ২০২২ এর ১৭ নভেম্বর কলেজে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যায় ওই কলেজ ছাত্রী। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ছাত্রীর বাবা।
তিনি জানান, তাঁর মেয়েকে বিহারে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ওই যুবক। আর তারপর থেকেই শুরু হয় তাঁর উপর অত্যাচার। সুজন একা নয়, তার বাবা ও মাও মেয়ের উপর পাশবিক অত্যাচার করে। এমন কি ২৫ লক্ষ টাকাও দাবি করে। তিনি বলেন, " ২০২২ এর ২০ ডিসেম্বর কোনওরকমে বিহার থেকে পালিয়ে ক্যানিংয়ের বাড়িতে চলে আসে মেয়ে। বাড়িতে চলে আসলেও তাকে ফোনে অনবরত হুমকি দেওয়া হতো। হুমকির মুখে পড়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২০২৩ এর ২২ জানুয়ারি মৃত্যু হয় আমার ২০ বছরের মেয়ের।"
এরপরেই বিহারের ওই যুবককে ধরতে ক্যানিং থানার পুলিশ তৎপর হয়। কিন্তু তবুও টিকি মিলছিল না। ক্যানিং থানার আইসি সৌগত ঘোষের নির্দেশে এসআই তমাল দত্ত তদন্ত শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে ওই যুবকের খুঁটিনাটি তথ্য জেনে ক্যানিং থানার তিন সদস্যের দল শনিবার বিহারে যায়। বিহার পুলিশের সাহায্যে রবিবার দুপুরে অভিযুক্তকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে সোমবার ক্যানিংয়ে ফেরে। মঙ্গলবার ধৃতকে আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ায় ওই কলেজছাত্রীর বাবা বলেন, "মেয়েকে তো আর ফিরে পাব না। তবে ওই যুবকের যেন কঠোরতম শাস্তি হয়। যাতে কেউ আর এমন কাজ করতে সাহস না পায়।"