বুধবার শ্রীরামপুরের সভা (West Bengal Assembly Election 2026) থেকে ফের বাম-বিজেপি আঁতাঁত ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 8 April 2026 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মাটি থেকে কংগ্রেস ও সিপিএম-কে বিজেপির ‘দালাল’ বলে দেগে দিয়েছিলেন। নাম না করে নিজের দলেরই বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও তুলোধনা করেছিলেন। সেই মেজাজ বজায় রেখেই বুধবার শ্রীরামপুরের সভা (West Bengal Assembly Election 2026) থেকে ফের বাম-বিজেপি আঁতাঁত ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
এদিনের জনসভা থেকে ইডি-সিবিআইয়ের (ED CBI) নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। বলেন, “দেখেছেন সিপিএমের কারও ইডি-সিবিআই হয়েছে? হয়নি। কেন? মাথাটা বিক্রি করে দিয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে এত লাগে কেন! সকলকে ডেকে পাঠায়। সকলকে কেস দেয়। কারণ ওরা জানে পশ্চিমবঙ্গ হারে না। হারতে জানে না।”
ভোটের ময়দানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বরাবরই সন্দিহান মমতা। এ দিনও সেই আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এখন প্ল্যান করেছে সেন্ট্রাল ফোর্সকে দিয়ে গ্রামেগঞ্জে আটকে দেবে। তারা নাকি শুনছি এলাকায় এলাকায় গিয়ে ভোট আটকাবে সিপিএমের কায়দায়।” অতীতে বাম আমলের ভোট পরিচালনার পদ্ধতির সঙ্গে বর্তমান বাহিনীর তৎপরতাকে এক বন্ধনীতে এনে আসলে মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধেই সওয়াল করেছেন তিনি।
এ দিনের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে সাক্ষী রেখেই নিয়োগ মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি সুপ্রিম কোর্টকে সম্মান জানিয়ে একটা কথা কল্যাণকে একটা কথা জিজ্ঞেস করছি। আমি সন্তুষ্ট নই। আমাকে একটু স্পষ্ট করো। যখন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিল ট্রাইবুনাল হবে। অ্যাডজুডিকেশন কেসে যাদের নাম বাতিল হয়েছে, তারা ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ পাবে। এখন ট্রাইবুনালে তৈরি হয়েছে। আমি পরের দিনই বাড়ি দিয়ে দিয়েছি। সেই ট্রাইবুনাল চলাকালীন কী ভাবে প্রথম দফার ভোটার লিস্ট ফ্রোজেন হয়ে গেল? আমার মাথায় এটা ঢুকছে না।”
জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মমতাকে জানান, “গতকাল রাত পর্যন্ত ট্রাইবুনালের ইনফ্রাস্ট্রাকচার এখনও নির্বাচন কমিশন করেনি। সেই কারণে ট্রাইবুনাল এখনও ফাংশন করতে পারছে না।”
বিজেপি ও কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে মমতা এ দিন কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। লড়াইয়ের ময়দানে তিনি যে আপসহীন, তা বোঝাতে তিনি বলেন, “আমি আমার জীবন দিয়ে লড়াই করব। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি এখান থেকে চলে গিয়ে আইনজীবী হয়ে আবার প্র্যাক্টিস করা শুরু করি। শুধু মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারটা আছে বলে আমি করতে পারি না।”