
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 18 May 2024 16:19
দ্য ওয়াল ব্য়ুরো: হুগলির আরামবাগের সভা থেকে বাম আমলের সন্ত্রাসের কথা মনে করালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরামবাগের গোঘাটের শ্রীহরে গ্রাম থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার চমকাইতলা, একের পর এক পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে উপস্থিত জনতার কাছে তৃণমূল নেত্রীর আর্জি, "তৃণমূল ছোটখাটো ভুল করলে থাপ্পড় মারবেন, আপনাদের অধিকার আছে। কিন্তু বিজেপি বা সিপিএম যেরকম গুন্ডা তাতে বাঁচতে পারবেন না। ওদের আর ফিরতে দেবেন না। মনে রাখবেন, আমি একটাই স্বার্থ বুঝি, মানুষের স্বার্থ।"
এরপরই টেনে এনেছেন বাম জমানায় সিপিএমের সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ। মমতার কথায়, "আগে সিপিএমের অত্যাচারে গোঘাটে মানুষ ঘর থেকে বেরোতে পারত না। নাপিত বয়কট করা হত। হাত, পা কেটে দেওয়া হত। এখান থেকে গড়বেতার চমকাইতলা পর্যন্ত একটা রাস্তা আছে। সিপিএম ওখানে একটা সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিল। খুন করে ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে নদীতে ফেলে দিত!"
দাবি করেছেন, 'লাল সন্ত্রাস' চাক্ষুষ করেছিলেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী প্রয়াত অজিত পাঁজাও। মমতার কথায়, "চমকাইতলায় আমাদের মিটিংয়ে হামলা করেছিল সিপিএম। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজিত পাঁজা ছিলেন ওই সভায়। চারিদিকে গুলি চলছে। অজিতদাকে উদ্ধার করে সেদিন এই গোঘাটে এসেছিলাম। থাকার জায়গা ছিল না। মিউন্যাসিপ্যালিটির দুটো রুমে আমরা রাত কাটিয়েছিলাম। তাই আরামবাগকে আমি সব সময় মনে রাখি।"
শুনিয়েছেন 'গ্রাম দখলে'র কথাও। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, "এই গোঘাটের গোপীনাথপুর শ্রীহরে একটা মিটিংয়ে এসেছিলাম। হাজার দশেক লোক জমায়েত হয়েছিল। রাতে খবর পেলাম, গ্রামটা দখল করে নিয়ে সবাইকে খুন করে দিচ্ছে সিপিএম। রাতেই বেরিয়ে পড়ি। আমার সঙ্গে এক সাংবাদিকও ছিল। এলাকা দিয়ে যাচ্ছি, গা ছমছম করছে। পুকুরে গলা পর্যন্ত জলে ডুবে ছিল ওরা। আমাদের দেখে বলছে- দিদি দিদি আমরা এখানে। প্রাণের ভয়ে লুকিয়ে রয়েছি।"
মমতার অভিযোগ, "চারিদিকে মদের ফোয়ারা উঠছিল, আর মাংস রান্না হচ্ছিল। অনেক কষ্টে ওদের উদ্ধার করে এনেছিলাম। মনে রাখবেন, সেই সিপিএমের হার্মাদরাই আজকে বিজেপির বড় হার্মাদ!"