সোমবার বোলপুরে দাঁড়িয়ে বুথ লেভেল অফিসার তথা বিএলও-দের (BLO) স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 28 July 2025 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিউ (SIR in West Bengal) তথা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে যখন বাংলার ভোটার তালিকা (voter list) থেকে বহু লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তখন সোমবার বোলপুরে দাঁড়িয়ে বুথ লেভেল অফিসার তথা বিএলও-দের (BLO) স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রী এদিন পরিষ্কার করে বলেন, বিএলও-রা রাজ্য সরকারের কর্মচারী। সুতরাং তাঁদের দেখতে হবে ভোটার তালিকা থেকে যেন কারও নাম বাদ না যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এও বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, নির্বাচন কমিশন কিন্তু ভোট মিটে গেলে আর থাকবে না। বাংলার সরকারই থাকবে।
বিহারে ইতিমধ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হয়েছে। বাংলাতেও তা হবে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি নেতারা দাবি করছেন, বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তত ১ কোটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছে। যারা ভারতের নাগরিক নয়, অথচ ভোটার তালিকায় তাদের নাম তুলে দেওয়া হয়েছে। এদের নাম বাদ গেলেই তৃণমূল জব্দ হবে বলে মনে করছেন শুভেন্দুরা।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, বাংলায় এসআইআর তথা নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়নি। তবে এ ব্যাপারে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ট্রেনিং দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। কিছু বিলিওকে দিল্লিতে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জেলায় জেলায় তাঁদের প্রশিক্ষণ চলছে। এবং তাদের ভাতা এক লাফে দ্বিগুণ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে কমিশন। সেই সঙ্গে বিশেষ ড্রাইভের সময়ে আরও ২ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ঠিক এহেন পরিস্থিতিতেই এদিন বোলপুরে প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা শাসকদের উদ্দেশে বলেন,“এই যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ১ হাজার লোককে নিয়ে গেছে জানতামই না। জেলা শাসকরা আমাকে বা মুখ্য সচিবকে না জানিয়েই পাঠিয়ে দিয়েছেন”।
এর পরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিএলওদের কাছে অনুরোধ থাকবে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম যেন বাদ না যায়। দেখবেন যারা এই রাজ্যের ভোটার তাদের নাম বাদ না পড়ে। কেউ চার দিন ঘুরতে গেলে বাদ দিয়ে দেবেন? আপনাদের তো দেখতে হবে তাদের সত্যিই অস্তিত্ব আছে কিনা!”
তাঁর কথায়, “ভোটের নোটিফিকেশন থেকে তা শেষ হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থাকবে। তার বাইরে তাদের অধিকার নেই। মনে রাখবেন আপনারা রাজ্য সরকারের চাকরি করেন। কোনও মানুষকে হেনস্তা করবেন না”। তিনি এও বলেন, “আজকে মামলার শুনানি আছে বলে বিস্তারিত বলছি না। দেখবেন যেন কাউকে হেনস্তা করা না হয়”।
বিহারে এখন বিজেপি ও তাদের শরিক দল মিলিয়ে সরকার চলছে। ফলে সেখানে এসআইআর তথা ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন করতে প্রশাসনিক ভাবে কোনও সমস্যা হচ্ছে না নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু ঘটনা হল, কমিশনের এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তৃণমূল ইতিমধ্যে সমালোচনা শুরু করেছে। বাংলায় শাসক দলের অভিযোগ এই সংশোধনের নকশা তৈরি করে দিয়েছে বিজেপি। তাই পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়া সঠিক ভাবে কতটা বাস্তবায়িত হতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, বিএলও-রা রাজ্য সরকারেরই কর্মচারী। শাসক দল প্রভাব খাটানোর পুরো আয়োজন করার আশঙ্কা রয়েছে।
এই সব সাত সতেরো ধারণার প্রেক্ষাপটেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন যে কথা বলেছেন, তা আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপি মুখপাত্র সজল ঘোষ এ ব্যাপারে বলেন, ভোটার তালিকায় সংশোধন নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে যে ভয় ঢুকে গেছে এটাই তার প্রমাণ। সেই কারণে বিএলওদের এখন থেকে শাসানি দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের উচিত এটাকে হাল্কা ভাবে না নেওয়া।