রাজ্যের হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে শনিবার বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সূত্রের খবর, শনিবারের সেই বৈঠকে ভার্চুয়ালি(ফোন) উপস্থিত হয়ে তাঁর আশঙ্কা ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়।

শেষ আপডেট: 25 October 2025 17:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে শনিবার বৈঠক (Health Meeting at Nabanna) ডেকেছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (Manoj Pant)।সূত্রের খবর, শনিবারের সেই বৈঠকে ভার্চুয়ালি(ফোন) উপস্থিত হয়ে তাঁর আশঙ্কা ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।স্বাস্থ্য দফতর (Health Department) মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ভালমন্দ কিছু ঘটলে তার দায় তাঁর উপরেই এসে পড়ার কথা। মমতার উদ্বেগ, চক্রান্ত করে কিছু ঘটানো হচ্ছে না তো!
আরজি কর হাসপাতালের (RG Kar Hospital) মহিলা চিকিৎসক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। তা সামলাতে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছিল সরকার। কিন্তু তারপরেও বিক্ষিপ্ত ভাবে একই ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। সম্প্রতি দুর্গাপুরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অথবা উলুবেড়িয়া, বীরভূম বা রাজ্যের সবচেয়ে বড় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ঘটনা ফের একবার হাসপাতালে মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সেই কারণেই রোগী ও চিকিৎসা কর্মিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে শনিবার বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
উৎসবের আমেজ কাটিয়ে এখনও পুরোদস্তুর কাজের ছন্দে ফেরেনি রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক দফতর নবান্ন। তবে এরই মধ্যে সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে ছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা, ভার্চুয়ালি ছিলেন বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও CMOH-রাও। সূত্রের খবর, নবান্নের এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি(ফোনে) উপস্থিত হয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করার পাশাপাশি বেশকিছু নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী—
১) বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী এবং রোগীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
২) হাসপাতালের ভিতরে এবং বাইরে নজরদারি বাড়াতে হবে।
৩) হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।
৪) হাসপাতালে পরিচয় পত্র আবশ্যিক করতে হবে। বিশেষ করে চিকিৎসক ছাড়া অন্যান্য কর্মি যারা আছেন তাদের।
৫) রোগীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
৬) বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের ক্ষেত্রে একান্ত নজরদারি চালানোর পাশাপাশি তাদের নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র ও পোশাক তৈরি এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশ।
শনিবারের বৈঠকে সম্প্রতি এসএসকেএম হাসপাতালে (SSKM Hospital) ঘটে যাওয়া ঘটনার (নাবালিকার শ্লীলতাহানি) প্রসঙ্গও ওঠে। হাসপাতালের অধ্যক্ষ অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কীভাবে এক হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মী অন্য হাসপাতালে চলে এল, তাও জানতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিবাচক হল, হাসপাতালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারকে কিছু নড়ে বসতে দেখা গিয়েছে এদিন। বাকিটা সময় বলবে। তবে এদিন হাসপাতালগুলির নিরাপত্তায় জোর দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের কাজেও জোর দিয়েছেন। SIR শব্দটি মুখে না আনলেও এদিন বৈঠকে ফোনে তিনি বার্তা দিয়েছেন কোনওকিছুর জন্য ডেভলপমেন্টের কাজে যেন ব্যহত না ঘটে।