মুখ্যমন্ত্রী জানান, মেয়েরা সামনে লড়াই করবে। ছেলেরা পিছনে থাকবে। আমি দেখতে চাই, মা বোনেদের শক্তি বড় না বিজেপির শক্তি বড়, বাংলা দেখতে চায়।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 11 December 2025 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর এর অছিলায় বাংলার দেড় কোটি ভোটারের নাম কাটার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বিজেপি আর কমিশন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সভা থেকে বারে বারে এই অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তিনি এও জানিয়ে দিলেন, কোনও যোগ্য ভোটারের নাম কাটলে কী করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ওরা বলছে, তাড়িয়ে দেব? তাড়িয়ে দেখাও। আসামে কেন এসআইআর হবে না, বিজেপির রাজ্য বলে! এসআইআর এর নাম করে মা, বোনেদের অধিকার কাড়বে। তারপর দিল্লির পুলিশ এনে ভয় দেখাবে?"
খানিক থেমে সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, "কী মা, বোনেরা নাম কাটলে বাড়িতে সব জিনিসপত্র আছে তো? যেগুলো দিয়ে রান্না করেন!"
ভিড় সমস্বরে জানায়, 'হ্যাঁ আছে"। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "প্রাণে শক্তি আছে? নাম কাটলে ধরবেন তো? ছেড়ে দেবেন না তো?" ফের ভিড় সমস্বরে জানায়,. "হ্যাঁ শক্তি আছে, নাম কাটলে ছেড়ে দেব না"।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী জানান, মেয়েরা সামনে লড়াই করবে। ছেলেরা পিছনে থাকবে। আমি দেখতে চাই, মা বোনেদের শক্তি বড় না বিজেপির শক্তি বড়, বাংলা দেখতে চায়।"
এ দিন নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “ইলেকশন এখনও ডিক্লেয়ার হয়নি। তুমি ডিএমদের ভয় দেখাচ্ছো কেন? মানুষকে বন্ডেড লেবার বানাতে চাইছো! আমরা তো বলেছিলাম, সময় নিয়ে এসআইআর করো। এত তাড়াহুড়ো কেন? হোয়াই সো হাঙ্গরি? ভোটের জন্য?” এরপরই আরও কড়া চ্যালেঞ্জ, “মনে রাখবেন, আঘাত করলে প্রত্যাঘাত হবে। সুস্থ বাঘের চেয়ে আহত বাঘ অনেক ভয়ঙ্কর।”
শুধু এসআইআর নয়, বিজেপির আইটি সেল নিয়েও তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপির আইটি সেলই ভোটার লিস্ট বানিয়ে দেবে, সেই লিস্ট ধরে ভোট করবেন—এটাই ওদের পরিকল্পনা! বিহারে যা করেছেন, বাংলায় হবে না। এজেন্সি দিয়ে হলেও হবে না।”
মমতার দাবি, কমিশন ও কেন্দ্রের ‘অত্যধিক হস্তক্ষেপ’ গণতন্ত্রের জন্যই বিপজ্জনক। তাঁর কথায়, “ওদের আপনারা বাধ্য করেছেন বিজেপিতে পরিণত করতে। এটা দেশের পক্ষে ভাল নয়। মনে রাখবেন, সরকার মানুষ নির্বাচন করে—ইলেকশন কমিশন নয়।” সভায় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ছিল স্পষ্ট—ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও ‘রাজনৈতিক খেলা’ মেনে নেবে না রাজ্য, আর মানুষই শেষ কথা বলবে।