
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 May 2025 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের (Digha Jagannath Temple) বিগ্রহ কোন কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক জন্ম নিয়েছে। পুরীর মন্দিরের সেবায়ত রাজেশ দয়িতাপতি যিনি দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন তিনি প্রথমে বলেছিলেন, ২০১৫ সালে পুরীর মন্দিরে নবকলেবরে ব্যবহৃত পবিত্র নিম কাঠের অবশিষ্ট অংশ দিয়েই বানানো হয়েছে দিঘায় জগন্নাথের বিগ্রহ। তাঁর এই দাবি ঘিরে হইচই সৃষ্টি হয়। পরে অবশ্য ওড়িশায় পৌঁছে তিনি সম্পূর্ণ বিপরীত মন্তব্য করেছিলেন। এই ইস্যুতে সোমবার মুখ খুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। তাঁর স্পষ্ট কথা, 'নিম কাঠ চুরি করে জগন্নাথ ধাম তৈরি করতে হবে, এমন অবস্থা হয়নি।'
অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে জগন্নাথের বিগ্রহ তৈরি নিয়ে প্রশ্ন প্রথম থেকেই উঠে যায়। যে অভিযোগ উঠেছিল তা নস্যাৎ করেন খোদ রাজেশ দয়িতাপতিই। দাবি করেন, নবকলেবরে ব্যবহৃত কাঠ নয়, অন্য একটি নিম গাছের কাঠ দিয়ে দিঘায় জগন্নাথের বিগ্রহ বানানো হয়েছে। তবে পুরী মন্দির কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ট। তাঁরা ইতিমধ্যেই রাজেশকে এই ইস্যুতে শো-কজ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, এমন মন্তব্য করে রাজেশ কোটি কোটি ভক্তকে বিভ্রান্ত করছেন। তাঁর আচরণে ওড়িশার মন্দিরের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়েছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে রাজেশের থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবশ্য বক্তব্য, তিনি দিঘায় জগন্নাথ মন্দির বানিয়েছেন বলে হিংসা করা হচ্ছে। পুরীর মন্দির কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ''আমাদের মূর্তি তো মার্বেলের ছিল। জগন্নাথ মূর্তি কিনতেও পাওয়া যায়। ওটা দয়িতাপতি নিয়ে এসেছেন। তবে যে জায়গা থেকে বলা হচ্ছে, সে জায়গা থেকে নয়। আমি শুনেছি, তাঁকে আবার প্রশ্ন করা হয়েছে যে, কেন দিঘায় পুজো করতে গেছিলেন। এও বলা হয়েছে যাতে পুরী থেকে কোনও পুরোহিত দিঘায় পুজো করতে না যান।'' মমতার প্রশ্ন, ''এত গায়ে লাগছে কেন? আমরা তো সবাই পুরীতে যাই। আমরা তো এমন করি না। আর আমাদের জগন্নাথ ধাম নিয়ে এত হিংসা?''
বিগত কিছুদিনে ওড়িশায় বাংলার শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার এই নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, বাংলার প্রচুর মানুষ পুরীতে যান জগন্নাথ ধাম দর্শনে। রাজ্যের কোনও সমস্যা হলে বাংলাই সাহায্য করে। আর সেখানে বাঙালিদেরই মারা হচ্ছে। মমতার প্রশ্ন, ''না হয় আমরা একটা জগন্নাথ মন্দির করলাম। ওড়িশাও ভাল থাকবে, বাংলাও ভাল থাকুক। তাতে সমস্যা কোথায়?'' তবে বাংলায় যে ওড়িশা বা ভিনরাজ্যের মানুষ রয়েছেন তাদের ওপর কোনও অত্যাচার হবে না বলে আশ্বাস দেন মমতা। কিন্তু তিনি সতর্ক করেন, কোনও কোনও হিংসুটে লোক আছে যারা এই সব কারণে ধর্মের নামে হিংসা ছড়াবে। কারণে হিংসার কোনও ওষুধ নেই। তাই কেউ যাতে উস্কানি না দেন, সেই আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।