নাম না নিলেও তাঁর নিশানায় যে ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা আরজি করের নির্যাতিতার মা ছিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনও সংশয় নেই।

পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 9 April 2026 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর আবহে পানিহাটি কেন্দ্রের লড়াই এখন আর কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ নেই, তা গড়িয়েছে কুরুচিকর আক্রমণ আর আইনি লড়াই পর্যন্ত। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েই বৃহস্পতিবার পানিহাটির জনসভা থেকে একদিকে যেমন নিজের দলের আদর্শ তুলে ধরলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেমনই অন্যপক্ষকে মনে করিয়ে দিলেন সৌজন্যের পাঠ। নাম না নিলেও তাঁর নিশানায় যে ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা আরজি করের নির্যাতিতার মা ছিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনও সংশয় নেই।
অস্তিত্ব রক্ষার ডাক ও সৌজন্যের পাঠ
এ দিন সভার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজের বদলে কিছুটা শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে মমতা বলেন, ‘‘আপনার সন্তান, শিক্ষা, ইতিহাস, খাবার, সংস্কৃতি, অধিকার যদি বাঁচাতে হয়, আপনাদের দরকার তৃণমূল সরকার। যে যতই নাটক, ছলনা করুক, একটা কথা বলবেন, ভোটে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভোট রাজনীতির অঙ্গ। এক রাজনীতির লোক অন্য রাজনীতিক লোককে বলতেই পারে। কিন্তু আমি কাউকে কটূক্তি করব না। আপনারাও সৌজন্যের সীমারেখা রাখবেন।’’
হুমকির মুখে তৃণমূলের নালিশ
উল্লেখ্য, পানিহাটির বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে ‘প্রাণনাশের হুমকি’ এবং অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। এই ঘটনায় গত রবিবারই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিল জোড়াফুল শিবির। কল্যাণের দাবি ছিল, এই ধরনের মন্তব্য কেবল নিন্দনীয়ই নয়, তা সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আরজি কর কাণ্ডের আবেগ নিয়ে বিজেপি প্রার্থী যখন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সচেতনভাবেই পালটা কোনও মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন। বরং ‘সৌজন্যের সীমা’র কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি কৌশলে বলটি বিরোধীদের কোর্টেই ঠেলে দিতে চেয়েছেন। মমতা বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাজনৈতিক লড়াই চললেও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীনতা তাঁর দলের সংস্কৃতি নয়।